আজিমপুর কলোনি দখল নিয়ে কল্যাণ সমিতির প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের জবাব
আজিমপুর কলোনি দখল: কল্যাণ সমিতির প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের জবাব

রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কলোনিতে সরকারি জায়গা দখল, বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং বিএনপি নেতার রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে গত ১ জুলাই প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে আজিমপুর গভর্নমেন্ট কোয়ার্টার্স কল্যাণ সমিতি। সমিতির দাবি, প্রকাশিত সংবাদের অধিকাংশ তথ্য একপাক্ষিক, ভিত্তিহীন ও বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

কল্যাণ সমিতির বক্তব্য

সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুহা. মনোয়ার হোছাইন (কডিছার) স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদপত্রে বলা হয়, সংবাদ প্রকাশের আগে কল্যাণ সমিতির কোনো দায়িত্বশীল প্রতিনিধির বক্তব্য নেওয়া হয়নি। ফলে প্রকৃত তথ্য উঠে আসেনি। তাদের ভাষ্য, বিগত সরকারের সময় কলোনির পরিবেশ ছিল অনিরাপদ এবং বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ড সংঘটিত হতো। সরকার পরিবর্তনের পর কলোনির এলোটিদের সহযোগিতায় সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করেছে বলে দাবি করা হয়।

প্রতিবাদপত্রে আরও বলা হয়, সরকারি জায়গা দখল, সরকারি বিদ্যুৎ ব্যবহার কিংবা সরকারি আবাসিক এলাকার পরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এসব অভিযোগের মাধ্যমে কল্যাণ সমিতি ও কলোনিবাসীর সম্মানহানির চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। সমিতির দাবি, প্রতিবেদনে যার রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে, তার স্ত্রী ওই কলোনির একজন বৈধ এলোটি এবং সেখানেই বসবাস করেন। এছাড়া কলোনির ২৭ নম্বর মাঠের এক কোণে এলোটিদের উদ্যোগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অস্থায়ীভাবে বসার জন্য কাপড় ও ত্রিপল দিয়ে একটি ছাউনি তৈরি করা হয়েছে। পুরো কলোনি নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী ও সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে বলেও প্রতিবাদপত্রে উল্লেখ করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিবেদকের বক্তব্য

সংবাদের প্রতিবাদের বিপরীতে প্রতিবেদকের বক্তব্য, আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টার-সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি একাধিক তথ্য-উপাত্ত, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, সরকারি নথিপত্র এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় ধারণ করা ছবি ও ভিডিওর ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে সংবাদ প্রকাশের পর আজিমপুর গভর্নমেন্ট কোয়ার্টার্স কল্যাণ সমিতি তাদের প্রতিবাদলিপিতে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে। পাঠকের স্বার্থে সেই প্রতিবাদও যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

এদিকে, সরকারি আবাসিক এলাকার একটি অংশ দখল করে রাজনৈতিক ক্লাব পরিচালনা, বহিরাগতদের নিয়মিত আনাগোনা, নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি এবং আবাসিক পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী এলোটি। তাদের লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য (অডিও রেকর্ড), ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতেই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত ও প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি আবাসিক এলাকায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক ক্লাব, বাজার বা এ ধরনের স্থাপনা পরিচালনার বিধান নেই বলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে দেওয়া তাদের বক্তব্যের অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। প্রতিবেদনে প্রকাশিত প্রতিটি তথ্য সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণ করে যথাসম্ভব যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য, নথি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে তাও একইভাবে পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হবে।