শিশু ধর্ষণচেষ্টার সালিসে আপসের চেষ্টা, ভুক্তভোগীর বর্ণনা প্রকাশ্যে
শিশু ধর্ষণচেষ্টার সালিসে আপস, ভুক্তভোগীর বর্ণনা প্রকাশ্যে

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা সালিসের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, সালিসকারী ওলামা দলের নেতা মানফুজুর রহমান প্রকাশ্যে শত শত মানুষের সামনে ভুক্তভোগী শিশুটির কাছে ঘটনার বর্ণনা শুনতে চান।

ঘটনার বিবরণ

গত শনিবার মাদ্রাসার টিফিনের বিরতিতে পাশের দোকানে খাবার কিনতে গিয়েছিল শিশুটি। দোকানদার হাকিম সরদার তাকে চকলেট খুলে দেওয়ার কথা বলে দোকানের ভেতরে নিয়ে যান এবং ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় আরও দুটি শিশু দোকানে চলে আসায় শিশুটি রক্ষা পায়। পরে শিশুটি তার মাকে ঘটনা জানালে মাদ্রাসার বড় হুজুরকে জানানো হয় এবং ন্যায্য বিচারের আশ্বাস দেওয়া হয়।

সালিসের আয়োজন

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মো. আরিফ হুসাইন উপজেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সালিসের মাধ্যমে আপস মীমাংসার চেষ্টা শুরু করেন। তিনি অভিযুক্তের কাছ থেকে জরিমানা নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। আরিফ হুসাইন বলেন, 'পরিবারটি মামলা করলে ১০ বছর ঘুরতে হবে। পরে ওই লোকের হয়তো ৫ বছর জেল হবে। কিন্তু তাতে কী কোনো লাভ হবে?'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের ভূমিকা

সালিসের খবর আগেই ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। কচুয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হারুন অর রাশিদ বলেন, 'এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ দেয়নি পরিবার। পুলিশ তাদের থানায় মামলা করতে আসতে বলেছে। কিন্তু তারা আসেননি।' সালিস বন্ধ না করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'সালিস কোথায়? এই বিষয়টা তো আমরা জানি না।'

সংঘর্ষ ও হুমকি

সালিস চলাকালে অভিযুক্ত হাকিম সরদার অপরাধ স্বীকার করলে তার ছেলেসহ এক পক্ষ উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং লাঠিপেটা শুরু হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। সালিসের ভিডিও ধারণ করা অনেককে ভিডিও মুছে ফেলতে হুমকি দেওয়া হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার পর থেকে শিশুটির মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ। পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং কী করবে বুঝে উঠতে পারছে না। তারা জানায়, আরিফ মেম্বারসহ কয়েকজন ২০ হাজার টাকা নিয়ে মিটিয়ে ফেলার প্রস্তাব দিচ্ছে।