ইরানে হামলার প্রতিবাদে রাজধানীতে বাসদের মশাল মিছিল ও সমাবেশ
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকায় মশাল মিছিল করেছে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ, মার্কসবাদী)। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এই মিছিলটি তোপখানা রোডে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় অফিস থেকে শুরু হয়ে পুরানা পল্টন, নুর হোসেন চত্বর, বায়তুল মোকাররম মার্কেট ও জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বর প্রদক্ষিণ করে পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিল শেষে পল্টন মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ
মিছিল শেষে পল্টন মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করা হয়, যেখানে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। বাসদের কেন্দ্রীয় সদস্য রাশেদ শাহরিয়ারের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলটির নির্বাহী ফোরামের সদস্য সীমা দত্ত।
নেতাদের বক্তব্য: হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন অভিযোগ
সমাবেশে বাসদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সমন্বয়ক মাসুদ রানা বলেন, “ইরানের ওপর বিনা উসকানিতে সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলা সমস্ত আন্তর্জাতিক সভ্য রীতিনীতি এবং জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানে হামলার হুমকি দিয়ে আসার পর এ হামলা সংঘটিত হলো। আমরা মনে করি, ইরানের ভবিষ্যত নির্ধারণের অধিকার শুধুমাত্র ইরানের জনগণই সংরক্ষণ করে। আমেরিকা ও ইসরাইলের সাম্রাজ্যবাদী শাসকগোষ্ঠীর বিন্দুমাত্র সে অধিকার নেই। এ হামলা ইরানের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর নির্লজ্জ এবং নগ্ন হস্তক্ষেপ ছাড়া কিছু নয়।”
যুদ্ধোন্মাদনা তৈরির অভিযোগ
মাসুদ রানা আরও বলেন, “সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা সারাবিশ্বে আজ নতুন করে যুদ্ধোন্মাদনা তৈরি করছে। ভেনিজুয়েলার ওপর নগ্ন হামলা ও কিউবার ওপর আগ্রাসনের ক্রমাগত হুমকির ধারাবাহিকতায় ইরানের ওপর এ হামলা করা হলো।” তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “যার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বকে নতুন করে ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।”
এই মিছিল ও সমাবেশে দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা অংশগ্রহণ করেন, যারা ইরানের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং শান্তির পক্ষে তাদের অবস্থান ব্যক্ত করেন।
