দীর্ঘ দুই মাস কারাভোগের পর মুক্তি পাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল ছাত্র সংসদের সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি তার কারাজীবনের অভিজ্ঞতা, পরিবারের দুর্দিন ও রাজনৈতিক জীবনের নানা সংকটের কথা তুলে ধরেছেন। গতকাল শুক্রবার (৮ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন।
কারাজীবনের বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা
কারাজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, তার ছোট দাদার সাথে আর কখনো কথা হবে না। দাদা ২৫ মার্চ রাতে সারাজীবনের জন্য তাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তার জেলখানার রুট দিয়েই দাদার লাশ দাফনের উদ্দেশ্যে যায়। তিনি জেল সুপারের পা ধরতে বাকি রেখেছিলেন, যাতে শেষ বারের মতো দাদাকে দেখার সুযোগ পান। কিন্তু তাকে বলা হয়, ভাসুরের লাশ দেখা ভালো না। কেন তিনি ভাসুরকে দেখার জন্য এত উদগ্রীব? ক্ষোভে ও ঘৃণায় তার দম আটকে আসার উপক্রম হয়। তিনি আর বলতে পারেননি যে এটি তার ভাসুর নয়, বরং নিজের ভাই হারিয়েছেন।
পরিবারের দুর্দিন ও হামলা
স্ট্যাটাসে তিনি আরও জানান, তার অনুপস্থিতিতে স্বামী একাই কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। পরিবারও একাধিক চাপ ও হামলার মুখে পড়েছে। এমনকি জামিন না হওয়ার খবর শুনে তার বাবা স্ট্রোক করে হাসপাতালে ভর্তি হন বলেও উল্লেখ করেন ইমি। সেই স্ট্যাটাসে তিনি অভিযোগ করে জানান, ৫ আগস্টের পরে তিন, তিনবার তাদের বাড়ি ভাঙার চেষ্টা করা হয়। স্বাধীনতাবিরোধীদের ব্যাকাপে থাকা এক মহিলা অবৈধভাবে তাদের জমি দখল করে বসে আছে। এতকিছুর পরও তার আব্বু এতটুকু টলে নি। তিনি বলেন, একটা সন্তানের জন্য এর চেয়ে বড় সৌভাগ্য আর কি কিছু হতে পারে? অথচ তিনি যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছেন।
ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা
ইমি আরও বলেন, অনেক মানুষের ভালোবাসা, দোয়া পেয়েছেন ও পাচ্ছেন। সেজন্য তিনি কৃতজ্ঞ। কিন্তু যে চরম মূল্য তাকে দিতে হলো, এতটা ক্ষত, এতটা ট্রমা কি আসলেই তার প্রাপ্য ছিল?



