জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সংবিধান আমাদের অস্তিত্ব, কিন্তু বারবার পরিবর্তনের কারণে এটি একটি ছেঁড়া পাতায় পরিণত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে আমি সংবিধান ধরে রাখার চেষ্টা করেছি এবং বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে তা প্রমাণ করেছি। হ্যাঁ, আমি করেছি, কারণ এই সংবিধান ১৯৭১ সালের লাখ লাখ শহীদের রক্তের সঙ্গে জড়িত।’
সংবিধানের বর্তমান অবস্থা
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘সংবিধানের অনেক ধারা ও অধ্যায় বারবার পরিবর্তন করে একে ছেঁড়া পাতায় পরিণত করা হয়েছে। তারপরও এটি আমাদের সংবিধান, যার জন্য আমরা যুদ্ধ করেছি।’ তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিনের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি কোনো ব্যক্তি নন, তিনি একটি প্রতিষ্ঠান। ৫ আগস্টের পর রাষ্ট্রপতি না থাকলে দেশে চরম অরাজকতা সৃষ্টি হতো এবং জাতি রক্ষা করা সম্ভব হতো কি না সন্দেহ।’
তারেক রহমান ‘পরিবর্তনের প্রতীক’
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ‘পরিবর্তনের প্রতীক’ বলে অভিহিত করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা দারিদ্র্য বিমোচন এবং সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে নারীর ক্ষমতায়ন এবং কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষির উন্নয়ন শুরু হয়েছে। তিনি প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৮ ঘণ্টা কাজ করছেন, যা তাঁর রক্তে আছে।’
জিয়া ও খালেদা জিয়ার অবদান
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম তাঁর বইয়ে লিখেছেন, জিয়াউর রহমান না থাকলে বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতো। জিয়া তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ ঘুচিয়ে কৃষিবিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া নারীশিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বিপ্লব ঘটিয়েছেন। তিনি কখনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। শহীদ জিয়ার মৃত্যুর পর তাঁর সম্বল ছিল একটি ছেঁড়া গেঞ্জি, আর বেগম জিয়া ভাড়া বাসায় থাকতেন।’
লন্ডন বৈঠকের গুরুত্ব
লন্ডনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও বিএনপির চেয়ারম্যানের বৈঠকের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘লন্ডনের ঐতিহাসিক বৈঠক নিয়ে যাঁরা বিদ্রূপ করেন, আমি তাঁদের তীব্র নিন্দা জানাই। সেই বৈঠকেই নির্বাচন এবং ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি ঠিক হয়েছিল। ওই বৈঠকের কারণেই আজ আমরা এই পার্লামেন্টে বসতে পেরেছি।’
বিরোধী দলের সমালোচনা
তিনি বলেন, ‘আমরা বন্ধুদের সঙ্গে দীর্ঘ সংগ্রাম করেছি। অনেকেই প্রাণ দিয়েছেন বা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ৫ আগস্টের পর অনেকের চেহারা বদলে গেছে, যাঁরা এখন ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বিভিন্ন উক্তি করছেন, যা গণতন্ত্রের জন্য সহায়ক নয়। তাঁরা নির্বাচনকে “ইঞ্জিনিয়ারিং” বলছেন, যা দেশের মানুষ মেনে নেবে না।’



