ফজলুর রহমানের বক্তব্যের নিন্দা জামায়াতপন্থি ৭০ মুক্তিযোদ্ধার
ফজলুর রহমানের বক্তব্যের নিন্দা ৭০ জামায়াতপন্থি মুক্তিযোদ্ধার

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের ৭০ সদস্য বিএনপির সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন। সংসদে ফজলুর রহমান বলেছিলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারে কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না।’ এই বক্তব্যের প্রতিবাদে পরিষদের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। সংগঠনটি জামায়াতপন্থি হিসেবে পরিচিত।

বিবৃতির মূল বক্তব্য

পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোসলেম উদ্দিন ও সেক্রেটারি জেনারেল বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. তাজিরুল ইসলাম বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, সরকারদলীয় এমপি ফজলুর রহমান জামায়াত এবং বিরোধীদলীয় নেতাকে নিয়ে যে ভাষা ব্যবহার করেছেন তা অপ্রীতিকর ও অসংসদীয়। এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ।

মুক্তিযোদ্ধাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা জিয়াউর রহমানের আহ্বানে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশ সরকারের অধীনে ছিল। তারা সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের টাকায় ভাতা পাচ্ছেন। স্বাধীনতার পর অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে যোগ দেন। পরবর্তীতে কেউ জাসদে যোগ দেন। বিএনপি গঠন হলে অনেকে দলটিতে যোগ দেন। ১৯৭৯ সালে জামায়াত রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করার পর অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। যেমন, ফজলুর রহমান নিজের আওয়ামী লীগ ছেড়ে অনেক দল বদলের পর বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফজলুর রহমানের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যে মুক্তিযোদ্ধারা ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করেন, তারা স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে আলাদা শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং জামায়াতকে সমর্থন করেন। ফলে ফজলুর রহমানের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। বরং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থি। স্বাধীন নাগরিক হিসেবে যে কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষের যে কোনো রাজনৈতিক দল ও মতের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফজলুর রহমানের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কিশোরগঞ্জের কোম্পানি কমান্ডার আইয়ুব বিন হায়দারের ভাষ্যমতে ফজলুর রহমান প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর অস্ত্রই হাতে নেননি। মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি কোম্পানি কমান্ডার ছিলেন না।

বিবৃতিতে সইকারী

বিবৃতিতে সই করেছেন মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ফজলুল হক, সহসভাপতি আবদুল ওয়ারেছ, ডা. আলতাফ হোসেন, শাহাবুদ্দিন, মতিউর রহমান, সদস্য শামসুদ্দিন মিয়া, বোরহান উদ্দিন, আবদুল করিম, মোকাররম হোসেন, কামালউদ্দিন, হাফিজ উদ্দিন, আহসান উল্লাহ পাটোয়ারী, আনোয়ার হোসেন, আব্দুল হামিদ, দৌলত আহমেদ, নূর মোহাম্মদ, নজরুল ইসলাম বকসী প্রমুখ।