রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ছাত্রশিবিরের ‘গুপ্ত রাজনীতি’ নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে দেয়াললিখন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার–সংলগ্ন প্রাচীরে দেয়াললিখনের মাধ্যমে তাদের কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় নেতা–কর্মীরা দেয়ালে লাল ও কালো রং দিয়ে ‘গুপ্ত রাজনীতি নিষিদ্ধ চাই’ লেখেন।
ছাত্রদলের বক্তব্য
দেয়াললিখন কর্মসূচিতে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ (রাহী) বলেন, ‘একাত্তরের রাজাকার বাহিনীরা জুলাই–পরবর্তী সময়ে নিজেদের ইসলামিক সংগঠন হিসেবে দাবি করছে। তারা গুপ্ত রাজনীতির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। আজকে দেয়াললিখনের মাধ্যমে তাদের গুপ্ত রাজনীতি থেকে বের হয়ে সুষ্ঠু ধারায় প্রকাশ্যে রাজনীতি করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরকে কোনো ধরনের গুপ্ত রাজনীতি করার সুযোগ না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে সুলতান আহমেদ বলেন, ‘যদি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির গুপ্ত রাজনীতি চালায়, আমরা সেটা সাংগঠনিক ও আইনগতভাবে প্রতিরোধ করব।’
অন্যান্য নেতার বক্তব্য
কর্মসূচিতে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘জামায়াত–শিবিরের গুপ্ত রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে আমরা আজকে লাল কালি দিয়ে দেয়াললিখন করছি। গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী বাংলাদেশে কোনো ধরনের গুপ্ত রাজনীতি হতে দেব না। যদি তারা গুপ্ত রাজনীতি থেকে বিরত না থাকে, তাহলে সরকার থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহ্বান জানাব। আমরা চাই, তারা সুষ্ঠু ধারায় বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি করুক।’
শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল মিঠু বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের আদর্শে বিশ্বাসী ছাত্রদল সব মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু সম্প্রতি ক্যাম্পাসে কিছু ব্যক্তি গোপন পরিচয়ে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আবির্ভূত হচ্ছে। একই সময়ে একাধিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা নৈতিকতার পরিপন্থী। রাজনীতি সবার অধিকার, তবে তা হতে হবে স্বচ্ছ ও সত্যনিষ্ঠ।
কর্মসূচির বিস্তারিত
ছাত্রদল জানিয়েছে, আজ চার-পাঁচটি জায়গায় দেয়াললিখন কর্মসূচি করা হবে। পর্যায়ক্রমে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় তাদের কর্মসূচি চলবে।
পূর্বের ঘটনা
গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে গ্রাফিতিতে ‘ছাত্র’ শব্দ মুছে ‘গুপ্ত’ শব্দ লেখা নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দুই দফায় এ সংঘর্ষ চলে। এতে অন্তত ২০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে উভয় পক্ষ।



