প্রবাসীদের 'শ্রমিক' নয়, 'যোদ্ধা' বলার আহ্বান বিরোধীদলীয় নেতার
প্রবাসীদের 'শ্রমিক' নয়, 'যোদ্ধা' বলার আহ্বান

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান প্রবাসীদের 'শ্রমিক' বলার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি বুধবার (১০ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিনে কার্যপ্রণালী-বিধির ১৪৭ বিধিতে উত্থাপিত প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন।

প্রবাসীদের জন্য সম্মানজনক শব্দের প্রয়োজন

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, 'আমরা তাদেরকে শ্রমিক বলি তবে, আমি শ্রমিক বলতে নারাজ। তারা সবাই শ্রমিক নয়, এর মাঝে বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কর্মকর্তা হিসেবে অনেকে আছেন। তাদের জন্য সম্মানজনক কোনও শব্দ খুঁজে বের করতে হবে। আমরা খুবই আনন্দিত আমাদের এই হাউজে বাংলা-উর্দু-ফার্সি কবি রয়েছেন, তারা যদি এরকম কোনও ভালো শব্দ নিয়ে আসে যেটা অন্তত তাদেরকে মানসিকভাবে কিছু সান্ত্বনা দেবে। আমি অনুরোধ করবো শ্রমিক রফতানি যেন না বলি। কারণ শ্রমিক রফতানি করা যায় না, পণ্য রফতানি করতে হয়।'

প্রবাসীদের 'যোদ্ধা' হিসেবে আখ্যা

প্রবাসীদের 'যোদ্ধা' হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, 'আমরা তাদের যোদ্ধা বলছি। আমরা যেন মেহেরবানি করে তাদেরকে বীরের সম্মান দিয়ে থাকি। বীর যোদ্ধারা দেশে এসে যেন বীরের সম্মান পান।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব

বিরোধীদলীয় নেতা প্রবাসীদের পাসপোর্ট নবায়ন ও এনআইডি সংশোধন জটিলতাসহ নানা সমস্যা নিরসনে সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, 'একটা সংসদীয় টাস্ক ফোর্স গঠন করা যায়। যেসব দেশে সমস্যাগুলা বেশি এই টাস্কফোর্স মাঝে মাঝে ফিজিক্যালি সেগুলা ভিজিট করবে। পরে তাদের কথা নিজ কানে শুনবে। সেখানে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও থাকবে। সবকিছু মিলিয়ে আমরা যদি একটা টোটাল প্যাকেজের দিকে যাই তাহলে আরও রেমিট্যান্স বাড়বে। আমি বিশ্বাস করি এই রেমিট্যান্সে দেশ এবং জাতি বেনিফিটেড হবে।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পাসপোর্ট ও এনআইডি জটিলতা নিরসনের আহ্বান

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, 'একটা বিশেষ বিষয় আমি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পর্ক। এটি হচ্ছে পাসপোর্ট সংশোধন করতে অনেকের সমস্যা হচ্ছে। এমআরপি পাসপোর্ট করতে গেলে এনআইডির সঙ্গে মিল থাকতে হবে। এই একটা অফিসের কারণে এনআইডিতে নামের আকার-একার একটু এদিক-সেদিক হয়ে থাকে। এনআইডিতে বয়সের একটু সামান্য কমবেশি হয়ে থাকে। এসব কারণে অনেকে পাসপোর্ট করতে পারে না। অনেকেই এই সমস্যার কারণে ইলিগ্যাল হয়ে গেছি। এই সংখ্যা শত নয় হাজার হাজার। এই প্রবলেমটা কীভাবে সর্ট আউট করে সলভ করা যায় এটা দেখতে হবে। দুর্বলতা কিছু আমাদের অফিশিয়াল, কিছু হয়তো তাদের। কিন্তু মানুষগুলো তো আমাদের অ্যাসেট। কীভাবে আমরা এই ব্যাপারে হেল্প করতে পারি এটা দেখতে হবে। এই সমস্যা সমাধান না করার কারণে অনেকের ঠিকানা জেলে হয়েছে। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করবো বিদেশের মাটিতে থেকেই এনআইডি এবং পাসপোর্টের এই জটিলতা অতি সহজে কীভাবে নিরসন করা যায় দেখতে হবে।'

উল্লেখ্য, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয় বিকাল ৩টায়। উত্থাপিত প্রস্তাবটি ছিল 'দেশের অর্থনীতিতে অসামান্য অবদান রাখা প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সমস্যা সমাধান, তাদের কল্যাণ নিশ্চিতকরণ, রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও শক্তিশালী ও টেকসই করা এবং জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান অব্যাহত রাখার স্বার্থের বিষয়ে আলোচনা'।