যুগান্তর সম্পাদক ও কবি আবদুল হাই শিকদার বলেছেন, দেশের বুদ্ধিজীবীদের বিরাট একটি অংশ দলদাসে পরিণত হয়েছেন। তারা ভারতীয় চামচে চিনি খেতে খেতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তাই একশ্রেণির বুদ্ধিজীবী আজও কবি ফররুখ আহমদকে নিয়ে কুৎসা রটিয়ে যাচ্ছেন।
ফররুখ আহমদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা
বুধবার ফররুখ আহমদের ১০৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ঢাকার আশুলিয়ায় ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত ‘রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরী?’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
ফররুখ আহমদ ছিলেন ট্র্যাজেডির নায়ক
যুগান্তর সম্পাদক বলেন, ফররুখ আহমদ ছিলেন ট্র্যাজেডির নায়ক। আধুনিক বাংলা সাহিত্যে শ্রেষ্ঠ ৬ জন কবি হলেন-মধুসূদন দত্ত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জসীমউদ্দীন, জীবনানন্দ দাশ ও ফররুখ আহমদ। তার ট্র্যাজেডি ছিল আদর্শগত। তিনি মাথা নোয়াবার ছিলেন না।
ফররুখ আহমদকে মুসলিম রেনেসাঁর কবি বলা ঠিক নয়
আবদুল হাই শিকদার বলেন, ফররুখ আহমদকে মুসলিম রেনেসাঁর কবি বলা ঠিক নয়। একটা শ্রেণি তাকে মহাসড়ক থেকে গলি পথে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। অথচ তিনি ছিলেন মানবতাবাদী ও মজলুমের পক্ষে। সে সময় ব্রিটিশ উপনিবেশ ও আধিপত্যবাদের জাঁতাকলে মুসলমানরা পিষ্ট ছিল। আমার বিশ্বাস, সে সময় যদি হিন্দুরাও নির্যাতিত হতো তাহলে তিনি হিন্দুদের পক্ষেই লিখতেন।
ফররুখ আহমদের ইসলাম ছিল সমাজ বিপ্লবের ইসলাম
যুগান্তর সম্পাদক বলেন, ফররুখ আহমদ মানবমুক্তির জন্য ইসলামি ভাবধারা, মানবতাবাদ ও আদর্শকে বেছে নিয়েছিলেন। তবে তার ইসলাম শুধু সওয়াব কামানোর ইসলাম নয়, বরং সমাজ বিপ্লবের ইসলাম ছিল। তিনি আরও বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক কবি। আর ফররুখ আহমদ ছিলেন ইসলামি সমাজতান্ত্রিক কবি। তিনি আদর্শ বোধসম্পন্ন একজন মানুষ ছিলেন।
ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির আলোচনা সভা
আলোচনায় ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদ আহমদ সোবহানীর সভাপতিত্বে আরও বক্তৃতা করেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শামসুল হুদা, রেজিস্ট্রার ড. আবুল বাশার খান, প্রকৌশল বিভাগের ডিন অধ্যাপক মাহফুজ আহমেদ প্রমুখ। এ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজনে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে কবি আবদুল হাই শিকদারকে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন অতিথিরা।



