প্রায় ১৩ মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। আজ বুধবার রাত সোয়া ১০টার সময় গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।
সেলিনা হায়াৎ আইভীকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার শিরিনা আক্তার। কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, তাঁর জামিন আদেশের কাগজ আগেই কারাগারে পৌঁছেছিল। কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি না পাওয়ায় তাঁকে মুক্তি দিতে সময় লাগছিল। আইভীর মুক্তির সময় কারাগার ফটকে তাঁর আইনজীবী ও স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি কারাগার থেকে বের হয়ে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেন।
গ্রেপ্তার ও মামলার বিবরণ
সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ২০২৫ সালের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসা (চুনকা কুটির) থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিভিন্ন মামলায় তিনি একাধিকবার জামিন পেলেও নতুন নতুন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর আগে গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র–জনতার আন্দোলনের সময়ের তিনটি হত্যা মামলা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
জামিনের আইনি প্রক্রিয়া
মোট পাঁচটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে ৯ নভেম্বর জামিন পান সেলিনা হায়াৎ আইভী। এ জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে পৃথক পাঁচটি আবেদন করে। চেম্বার আদালত ১২ নভেম্বর হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। গত ১০ মে জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক পাঁচটি লিভ টু আপিল খারিজ করে আইভীর জামিন বহাল রাখেন সর্বোচ্চ আদালত।
রাজনৈতিক পটভূমি
২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। পরে নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনটি নির্বাচনে জয়ী হন তিনি। তাঁর মুক্তির পর নারায়ণগঞ্জে সমর্থকদের মধ্যে উল্লাস দেখা গেছে।



