মটকা গরম বিতর্ক: এমপি মাসুদের বক্তব্যে তোলপাড়
মটকা গরম বিতর্ক: এমপি মাসুদের বক্তব্যে তোলপাড়

পটুয়াখালী-২ বাউফল আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ ‘মটকা গরম’ বাক্য ব্যবহার করে আলোচনার ঝড় তুলেছেন। শনিবার উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে স্থানীয় জামায়াত আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

‘মটকা’ শব্দের অর্থ নিয়ে বিতর্ক

একাধিক ফেসবুক ব্যবহারকারী দাবি করেন, ‘মটকা’ শব্দটি তামিল ছবিতে ব্যবহৃত হয়, যার অর্থ মাথা। অন্যদিকে, বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে মাটির তৈরি পাত্রকেও মটকা বলা হয়, যা ধান-চাল সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়। এমপি মাসুদ তার বক্তব্যে ‘মটকা গরম’ অর্থাৎ ‘মাথা গরম’ করার কথা বলেন, যা অনেকে তামিল ছবি দেখার অভ্যাসের সঙ্গে যুক্ত করছেন। তবে এমপি মাসুদ তামিল ছবি দেখার বিষয়টি স্বীকার করেননি।

এমপি মাসুদের বক্তব্যের মূল অংশ

ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এমপি বলেন, ‘শফিকুল ইসলাম মাসুদ কী জিনিস, এইটা বাউফলের মানুষকে দেখানোর দরকার নাই, শেখ হাসিনার কাছে জাইন্না নিয়েন। শেখ হাসিনার কাছে জিজ্ঞেস কইরা দেইখা নিয়েন, শফিকুল ইসলাম মাসুদ কী জিনিস।’ তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা উন্নয়ন তো কম করে নাই, তারপরও পালানো লাগছে কেন? উন্নয়ন করে যদি টিকে থাকতে পারত, তাহলে বাংলাদেশে একমাত্র শেখ হাসিনার টিকে থাকার কথা; কিন্তু পারে নাই কেন? রাস্তা দিছে, ঘাট দিছে, সেতু দিছে—এইটা করছে, ওইটা করছে, কিন্তু মানুষের মনে কোনো আনন্দ ছিল না। মানুষের অধিকার ছিল না।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ক্ষমতা প্রদর্শনের ইঙ্গিত

এমপি মাসুদ আরও বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জাইনেন, ওখানকার সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসীর কাছে জিজ্ঞেস কইরেন, শফিকুল ইসলাম মাসুদ কী জিনিস। উল্টাপাল্টা কথা বইলা মটকা গরম করবেন না। মটকা বোঝেন তো? মটকা গরম করবেন না, সামলাইতে পারবেন না।’ তিনি দাবি করেন, ‘দুই ঘণ্টার মধ্যে ওসিকে চেয়ার থেকে সরিয়েছি, দুই ঘণ্টার মধ্যে সেনাবাহিনীর মেজরকে চেঞ্জ করছি এখান থেকে। অনেকে বলেন- ভোটে এমপি হইছেন। আমি বলি, খালি ভোটে এমপি হই নাই, পাওয়ারেও এমপি হইছি। পাওয়ার দেখাইতে আসবেন না। পাওয়ার দেখাইবে বাউফলের পাঁচ লাখ মানুষ।’

অনুষ্ঠানে উপজেলা জামায়াতের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এমপি মাসুদের এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।