রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেবে পুলিশ। তদন্তের আনুষ্ঠানিকতা শেষে চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়েছে।
চার্জশিট প্রস্তুতের ঘোষণা
রোববার সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান বলেন, দুইজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রস্তুত হয়েছে। আগামী সপ্তাহে আদালতে তা দাখিল করা হবে।
আসামিদের জবানবন্দি ও কারাগারে প্রেরণ
এর আগে ২০ মে বুধবার বিকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দেয় আসামি সোহেল রানা। একই দিনে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঢাকার আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালতে তোলা হয়। শুনানি শেষে তাকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।
ঘটনার বিবরণ
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিশু রামিসা আক্তার পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টায় ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তার ফ্ল্যাটের রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টায় রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকলে একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে তার জুতা দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।
লাশ উদ্ধার
ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসা আক্তারের মস্তকবিহীন লাশ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। আসামি স্বপ্না আক্তারকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তার স্বামী সোহেল রানা হীন কামনা চরিতার্থ করার জন্য রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যা করেছে।
মাথা বিচ্ছিন্ন করে গুমের চেষ্টা
পরে রামিসার লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করা হয়। মাথাটি বালতির মধ্যে রাখা হয়। লোকজন জড়ো হলে রুমের জানালার গ্রিল কেটে সোহেল রানা পালিয়ে যায়। পরে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।



