সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আত্মপ্রকাশের মাত্র পাঁচ দিনেই ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকে ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যায় পেছনে ফেলে দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। যদিও সমালোচকেরা একে কেবলই সস্তা অনলাইন প্রচারণা হিসেবে দেখছেন, তবে নেটদুনিয়ায় দলটির প্রভাব দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইতোমধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের দুজন সংসদ সদস্য এই দলে ‘যোগ’ দিয়েছেন এবং বোস্টন প্রবাসী প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের প্রতি আনুগত্য জানিয়ে বিভিন্ন রাজ্যে দলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইউনিটও চালু হয়েছে।
প্রতীক বিতর্ক
অনলাইনে এমন ঝড় তোলা এই দলটির নাম যেহেতু ‘তেলাপোকা’ বা ককরোচ, তাই প্রশ্ন উঠেছে, দলটি কি সত্যিই নির্বাচনি প্রতীক হিসেবে ‘তেলাপোকা’ ব্যবহার করতে পারবে? যদিও দলটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে তাদের প্রতীক হবে ‘মোবাইল ফোন’, কিন্তু তারা যদি ‘তেলাপোকা’ প্রতীক দাবি করে, তবে ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) নিয়ম অনুযায়ী তা পাওয়া মোটেও সহজ হবে না।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম
ভারতে দলীয় প্রতীক বরাদ্দের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। নিয়ম অনুযায়ী, সিজেপিকে প্রথমে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন করতে হবে। অনিবন্ধিত বা ছোট দলগুলোকে সাধারণত নির্বাচন কমিশনের দেওয়া ১০০টিরও বেশি ‘মুক্ত প্রতীক’ (যেমন: এসি, ল্যাপটপ, সিসিটিভি ক্যামেরা, নেইল কাটার) থেকে যেকোনও একটি বেছে নিতে হয়। কমিশনের এই তালিকায় বর্তমানে ‘মোবাইল ফোন’ প্রতীকটি নেই, তবে ল্যান্ডলাইন ফোন ও মোবাইল চার্জার রয়েছে।
কোনও নতুন দল চাইলে নিজেদের পছন্দমতো তিনটি নতুন প্রতীকের নকশা জমা দিতে পারে। তবে ভারতের ১৯৬৮ সালের নির্বাচনি প্রতীক আইনের (২০১৬ সালের সংশোধনী) একটি বড় নিয়ম হলো, নতুন প্রস্তাবিত প্রতীকে কোনও ‘পাখি বা পশুপাখি’র ছবি থাকা যাবে না। এখন নির্বাচন কমিশন তেলাপোকাকে ‘প্রাণী’ নাকি ‘পতঙ্গ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করবে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। তবে বিজ্ঞান অনুযায়ী তেলাপোকা প্রাণী জগতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এই প্রতীক পাওয়ার ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা তৈরি হবে।
পশুপাখির প্রতীক নিষিদ্ধ
নির্বাচনে পশুপাখির প্রতীক ব্যবহারের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা অবশ্য নতুন নয়। পশু অধিকার কর্মীদের আপত্তির মুখে ১৯৯১ সাল থেকেই নতুন কোনও দলকে পশুপাখির প্রতীক দেওয়া বন্ধ করে দেয় নির্বাচন কমিশন। কারণ, নির্বাচনি প্রচারণায় অনেক সময় আসল পশুপাখি এনে নিষ্ঠুরতা চালানো হতো। ২০১২ সালেও কমিশন দলগুলোকে প্রচারণায় পশুপাখি ব্যবহার না করতে কড়া নির্দেশ দেয়। তবে বহু পুরোনো দল হওয়ায় মায়াবতীর বিএসপির ‘হাতি’ কিংবা ফরওয়ার্ড ব্লকের ‘সিংহ’ প্রতীক বহাল রয়েছে। কিন্তু নতুন দলের জন্য এই নিয়ম অত্যন্ত কঠোর।
আপাতত ককরোচ জনতা পার্টির জনপ্রিয়তা কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চটকদার ট্রোলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এটি শেষ পর্যন্ত কোনও মূলধারার রাজনৈতিক দলে রূপ নেবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে শেষ পর্যন্ত দল গঠন করলেও ব্যালট পেপারে ‘তেলাপোকা’ প্রতীক পাওয়ার পথ দলটির জন্য অনেকটাই বন্ধ।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে



