দেশে এক সময়কার অভিশাপ ‘অ্যাসিড সন্ত্রাস’ নির্মূলের সফল ইতিহাস টেনে বর্তমান সময়ের ভয়াবহ ব্যাধি শিশু ধর্ষণের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট গবেষক ড. শামারুহ মির্জা। তিনি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বড় মেয়ে। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি বাংলাদেশের সামাজিক অপরাধ দমনের অতীত সাফল্য ও বর্তমানের চ্যালেঞ্জ নিয়ে এই কড়া বার্তা দেন।
অ্যাসিড সন্ত্রাস দমনের সফল মডেল
ড. শামারুহ মির্জা তার পোস্টে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে এক সময় অ্যাসিড নিক্ষেপ মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে, বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে কিছু নিষ্ঠাবান মানুষের কঠোর পরিশ্রম এবং সময়োপযোগী ‘চমৎকার নীতিমালার’ (এক্সিলেন্ট পলিসি) কারণে এই অপরাধ নাটকীয়ভাবে কমে আসে। অ্যাসিড নিক্ষেপবিরোধী সেই কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও সামাজিক সচেতনতাকে উদাহরণ হিসেবে টেনে তিনি বর্তমানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।
শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
বর্তমানে দেশে ক্রমবর্ধমান শিশু নির্যাতনের হার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে শামারুহ মির্জা বলেন, ‘শিশু ধর্ষণের মতো মহাপাপ কিংবা অপরাধ আর কিছু নেই।’ তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, শুধুমাত্র শিশু ধর্ষণই নয়, সমাজ থেকে সব ধরনের ধর্ষণ এবং হত্যার মতো ঘটনাকে ‘শূন্যে’ নামিয়ে আনতে হবে। দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি লেখেন, ‘পিরিয়ড’ (অর্থাৎ এর ওপর আর কোনো কথা হতে পারে না)।
‘অ্যাসিড সন্ত্রাসের মতো জঘন্য অপরাধ যদি কঠোর নীতি ও সদিচ্ছার মাধ্যমে নির্মূল করা সম্ভব হয়, তবে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো পৈশাচিকতা কেন বন্ধ করা যাবে না?’ এই প্রশ্ন রেখে তিনি অতীতের সাফল্যের মডেলটিকে বর্তমানের জন্য অনুসরণীয় করে তুলেছেন।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া
রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ফখরুলকন্যার এই মন্তব্য বর্তমান বাস্তবতায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি কেবল বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনাই করেননি, বরং অতীতে কীভাবে একটি জঘন্য অপরাধকে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সমন্বিত প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল, সেই সফল মডেলটি মনে করিয়ে দিয়েছেন। ঠাকুরগাঁও অঞ্চলসহ সারাদেশে শিশু ধর্ষণমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে এই আহ্বান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



