বিএনপির আন্দোলনেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি: ডিএসসিসি প্রশাসক
বিএনপির আন্দোলনেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম বলেছেন, জুলাইয়ের সফল গণঅভ্যুত্থান হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি। এর পেছনে বিগত ১৭ বছর ধরে বিএনপির নেতাকর্মীদের আন্দোলন-সংগ্রাম, রক্ত, ঘাম, জেল-জুলুম এবং অসংখ্য আত্মত্যাগ জড়িয়ে রয়েছে।

লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচি

বুধবার (২০ মে) দুপুরে রাজধানীতে ‘জুলাই সনদ’ ও ‘গণভোট’ নিয়ে স্বার্থান্বেষী মহলের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এবং সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপের পক্ষে জনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে আয়োজিত এক লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন। ডিএসসিসি প্রশাসক দাবি করেন, দেশের মানুষ বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা করেই দলটিকে ভোট দিয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বিএনপি আজ রাষ্ট্র পরিচালনা করছে।

প্রশ্ন ও প্রত্যাশা

তিনি প্রশ্ন তোলেন, 'সরকার কি জনগণের কথায় দেশ চালাবে, নাকি অন্য কোনো দলের কথায়?' তার মতে, জনগণ যেহেতু বিএনপিকে পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে, তাই জনগণের প্রত্যাশা ও বিএনপির নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ীই দেশ পরিচালিত হবে। জুলাই সনদ নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজ যারা এই সনদ নিয়ে সবচেয়ে বেশি কথা বলছেন, তাদের চেয়ে বিএনপি অনেক বেশি দেশপ্রেমিক।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নেতাকর্মীদের ত্যাগের স্মৃতি

আন্দোলনে নেতাকর্মীদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে আব্দুস সালাম বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে এমন কোনো বিএনপি নেতাকর্মী ছিলেন না, যিনি জেল খাটেননি বা নির্যাতনের শিকার হননি। উদাহরণ হিসেবে তিনি ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনুর কথা উল্লেখ করে বলেন, তাকে মাসের পর মাস এক জেল থেকে অন্য জেলে স্থানান্তর করে নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বহু নেতাকর্মী গুম ও খুনের শিকার হলেও বিএনপি কখনো আন্দোলনের মাঠ ছাড়েনি এবং স্বৈরাচারের সাথে কোনো আপস করেনি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ১৯৭১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে ফ্রন্টলাইন থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেন। একইভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কোনো অন্যায়ের সাথে আপস না করে জনগণের অধিকারের রাজনীতি করে গেছেন।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষ অতীতে যেমন জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার পাশে ছিল, তেমনি এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বের ওপর আস্থা রেখেছে। মাত্র তিন মাসেই তারেক রহমানের গৃহীত জনমুখী ও ইতিবাচক নানা পদক্ষেপ দেখে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর তৈরি হওয়া নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আব্দুস সালাম। নাম উল্লেখ না করে কিছু মহলের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, 'যে বিএনপি আপনাদের মন্ত্রী বানিয়েছে, রাজনৈতিক পরিচিতি দিয়েছে, ৫ আগস্টের পর সেই বিএনপির বিরুদ্ধেই আজ আপনারা অবস্থান নিচ্ছেন। এটাই আসলে বড় ষড়যন্ত্র।'

অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার সমালোচনা

তিনি বিগত অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, সে সময় যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের ব্যর্থতার কারণেই আজ ঢাকা শহরে নানা নাগরিক সমস্যা প্রকট হয়েছে। অথচ তারাই এখন বড় বড় কথা বলছেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয় উল্লেখ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, দুই-তিন মাসে কোনো দেশের ভাগ্য বদলানো যায় না। জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'অন্তত এক-দুই বছর অপেক্ষা করেন, তারপর দেখুন তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ কোন দিকে যায়।' তিনি সরকারকে বাধা না দিয়ে দেশের সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।