মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
ফেসবুক পোস্টে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া
বুধবার (২০ মে) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি জানান। পোস্টে তিনি রামিসার প্রতি সমবেদনা জানিয়ে লেখেন, 'প্রিয় সোনামণি রামিসা, তোমার কাছে মানবতা লজ্জিত। তুমি নিষ্পাপ ছিলে। তুমি এখনো বৃন্ত থেকে পুরোপুরি ফোটনি। তুমি ছিলে তোমার মা-বাবা ও বোনের চোখজুড়ানো হৃদয়ের আবেগ ও ভালোবাসামাখা ভবিষ্যতের এক অপূরণীয় স্বপ্ন।'
তিনি আরও লেখেন, 'তুমি চলে গেছ—তোমার চলে যাওয়াটা হায়েনার লালসার কাছে হার মানেনি। ওই হায়েনাটাই চিরদিন লানতের পাত্র হয়ে থাকবে।'
দ্রুত বিচারের দাবি
জামায়াত আমির বলেন, 'আমরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং এই নরপশু হত্যাকারীর শাস্তি অতি দ্রুত দেখতে চাই। আল্লাহ তা'আলা রামিসাকে জান্নাতের পাখি হিসেবে কবুল করুন। তার পিতা-মাতা, বোন এবং আপনজনকে ধৈর্য ধরার তাওফিক দিন। আমিন।'
ঘটনার বিবরণ
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ঘটে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড। অভিযুক্ত সোহেল রানা (৩২) পেশায় একজন রিকশা মেকানিক। শিশুটিকে হত্যা করে পালিয়ে যান সোহেল। পরে সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। তবে এর আগেই তার স্ত্রী সম্পাকে বাসা থেকে আটক করা হয়।
সোহেল-সম্পা দম্পতির ঘরেই মেয়েটিকে হত্যা করা হয়। সোহেল একটি রিকশার গ্যারেজে কাজ করেন। প্রতিবেশী হওয়ায় রামিসা ও তার বাবা-মায়ের সঙ্গে সোহেলের পরিচয় ছিল।
রামিসা মিরপুর পল্লবীর পপুলার মডেল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মঙ্গলবার সকালে রামিসা বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বাইরে কোথাও খুঁজে না পেয়ে প্রতিবেশী সোহেলের বাসার বন্ধ দরজায় টোকা দেন। ভেতর থেকে দরজা বন্ধ ছিল। ডাকাডাকি করেও কারও সাড়া না পেয়ে ৯৯৯ এ বিষয়টি জানানো হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পল্লবী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বন্ধ দরজা ভেঙে পুলিশ বাসায় ঢুকে সোহেলের ঘরে রক্ত দেখতে পায়। প্রথমে খাটের নিচ থেকে শিশুটির মাথাবিহীন লাশ পাওয়া যায়। শরীর বিবস্ত্র ছিল। খাটের নিচে এক কোণায় রঙের খালি প্লাস্টিক বালতির মধ্যে কাটা মাথার সন্ধান মেলে।
সোহেলের স্ত্রী সম্পা রান্নাঘরে লুকিয়ে ছিলেন। সেখান থেকে তাকে আটক করা হয়। এর আগেই সোহেল পালিয়ে যান। অপর দুটি কক্ষে তালাবদ্ধ ছিল।



