রাজশাহীতে ঋতু খাতুন ওরফে রিয়া (২২) নামে এক নারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার বিরুদ্ধে। নিহত রিয়ার স্বামী মিজানুর রহমান মিজানকে এই হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে তার পরিবার। এ ঘটনায় বিচার দাবিতে শুক্রবার রাতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে রাজশাহী মহানগর ছাত্রদল।
ঘটনার বিবরণ
বুধবার (১৩ মে) সকালে রিয়ার স্বজনরা জানতে পারেন, শ্বশুরবাড়িতে তার মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, রিয়াকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এ ঘটনায় রিয়ার মা শিলা খাতুন বাদী হয়ে মিজানুর রহমান মিজানসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মতিহার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরিবারের অভিযোগ
নিহতের মা শিলা খাতুনের দাবি, মিজানুর রহমান পরকীয়া করতেন এবং যৌতুকের জন্য রিয়াকে নির্যাতন করতেন। মামলা দায়েরের পর দুদিন পার হলেও অভিযুক্ত মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
ছাত্রদলের বিক্ষোভ
শুক্রবার রাতে মহানগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে রাজশাহী মহানগর ছাত্রদল। মিছিলটি মনিচত্বর হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা অভিযুক্তের গ্রেফতার দাবি করেন।
মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব ইমদাদুল হক লিমন বলেন, জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসী মিজান আমাদের বোন রিয়াকে হত্যা করেছে। ছাত্রদল কোনো হত্যাকাণ্ড সমর্থন করে না। রিয়ার হত্যার বিচার না হলে ছাত্রদল রাজপথে থাকবে।
জামায়াতের অবস্থান
ছাত্রদল অভিযুক্তকে জামায়াতের নেতা দাবি করলেও রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডল বলেন, মিজানুর নামে তাদের দলে কেউ নেই। ছাত্রদল কেন বিক্ষোভ করেছে তা তারাই বলতে পারবে।
তবে একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্ত মিজানুর রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারকালে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছেন। আরেকটি ভিডিওতে মহানগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ড (পূর্ব) জামায়াতে ইসলামীর কমিটি ঘোষণায় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মিজানুর রহমান মিজানের নাম ঘোষণা করা হয়।
পুলিশের বক্তব্য
মতিহার থানার ওসি গোলাম কবির জানান, এ ঘটনায় মিজানুর রহমান মিজানসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে। নিহত রিয়ার মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হবে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।



