নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় একটি উন্মুক্ত বাজেট সভায় বক্তব্য শেষে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ায় মিজানুর রহমান নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। যুবদলের কর্মী পরিচয় দেওয়া আলাউদ্দিন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এই হেনস্তার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) ঘটা এই ঘটনায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, হাজীনগর ইউপির উন্মুক্ত বাজেট সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান। বক্তব্যের শেষের দিকে তিনি অসাবধানতাবশত ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে বসেন। তাৎক্ষণিকভাবে নিজের ভুলের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করলেও সভায় উপস্থিত আলাউদ্দিন নিজেকে যুবদল কর্মী পরিচয় দিয়ে হট্টগোল ও উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে আলাউদ্দিন ও তার সহযোগীরা ওই মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং সভাস্থলের মাইকে সবার সামনে তাকে আবারও ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন।
মুক্তিযোদ্ধার প্রতিক্রিয়া
ক্ষোভ প্রকাশ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান বলেন, “আমরা রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করেছি। সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে এখন এই স্লোগান দেওয়া যে কারও জন্য বিপজ্জনক। গতকাল সভায় মুখ ফসকে জয় বাংলা বলার পর আমি সঙ্গে সঙ্গে ভুল স্বীকার করি। এরপরও সবার সামনে আমাকে লাঞ্ছিত করা হয়।”
অভিযুক্তের বক্তব্য
অন্যদিকে অভিযুক্ত আলাউদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দাবি করেন, স্লোগান দেওয়ার পর তিনিসহ উপস্থিত সবাই উত্তেজিত হয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধা নিজেই মাইকে ক্ষমা চেয়েছেন। তবে ঘটনার জন্য শুধু তাকে একাই দায়ী করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
স্থানীয় নেতাদের মতামত
হাজীনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফিরোজ মাহমুদ জানিয়েছেন, আলাউদ্দিন নিজেকে বিএনপি বা যুবদলের কর্মী দাবি করলেও বাস্তবে তার কোনো সাংগঠনিক পদ নেই; বরং রাজনৈতিক সুবিধা নিতেই তিনি দলের নাম ব্যবহার করছেন এবং অতীতে তার বিরুদ্ধে ভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার নজির রয়েছে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নওগাঁ জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় সকল মুক্তিযোদ্ধাই এই স্লোগান দিয়েছেন, তবে পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক অপব্যবহারের কারণে এই স্লোগানটি বিতর্কিত হয়ে পড়েছে।
দাবি
স্থানীয় সচেতন মহল ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।



