জামায়াতের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়নি: শফিকুর রহমান
জামায়াতের সঙ্গে চুক্তি আলোচনা হয়নি: শফিকুর

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আমেরিকার সঙ্গে হওয়া চুক্তির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কেউ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি বলে দাবি করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার বিকেলে রংপুর শিল্পকলা একাডেমিতে মহানগর জামায়াত আয়োজিত সুধী সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

চুক্তি নিয়ে জামায়াতের অবস্থান

শফিকুর রহমান বলেন, 'এখনো আমি অত্যন্ত দায়িত্ব নিয়ে বলছি, তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে কোনো একজন মানুষ এই বিষয় নিয়ে আমাদের সঙ্গে একটা শব্দ উচ্চারণ করেনি।' তিনি আরও বলেন, জামায়াতের সঙ্গে কোনো প্রকার আলোচনা বা পরামর্শ ছাড়াই ওই চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে

তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, 'আমরা পদ্মা ব্যারাজের উদ্যোগকে অভিনন্দন জানাই। কিন্তু এটা তিস্তার বিনিময়ে নয়।' তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'তিস্তার জায়গায় তিস্তাকে অবশ্যই তার পাওনা দিতে হবে এবং এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেই হবে। এর ভিন্ন আমরা কিছু চাই না।' তিনি সংসদেও একই কথা বলেছেন বলে উল্লেখ করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ

স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, 'আমরা একটা নির্বাচনমুখী দল। আমরা গণতান্ত্রিক পন্থায় এই দেশের নেতৃত্বের পরিবর্তন চাই। কাজেই আমরা সব নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। এবারও আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সব স্তরে অংশগ্রহণ করব।'

জাতীয় নির্বাচনের পর শেরপুর ও বগুড়ায় উপ-নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, 'আপনারা সেখানকার চিত্র, কাণ্ড-কারখানা সবই দেখেছেন। আমরা এই ব্যাপারে শঙ্কিত যে, আদৌ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কি না।' তবে তিনি জনগণকে সজাগ ও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি

জামায়াতের আমির আরও বলেন, 'গণভোটের পক্ষে দেশের মানুষ রায় দিয়েছে। সরকার সেই গণভোটের রায়কে অপমান-অগ্রাহ্য করেছে। গণভোটের রায়কে বাদ দেয়া বা পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে দেয়া হবে না। আমরা গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংসদ ও সংসদের বাহিরে লড়াই চালিয়ে যাব। গণভোটের রায় একদিন বাস্তবায়ন হবে।'

তিনি বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, 'বর্তমান সরকার গণভোটকে আগ্রাহ্য করার পাশাপাশি দেশের গভর্নর পরিবর্তন করে বিতর্কিত মানুষকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছে। ৪২ জেলায় প্রশাসক বসিয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক উপায়ে যখন দেশ এগিয়ে যাচ্ছিলো, তখন কেন দলীয় লোকজনকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসাতে হবে?'

শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনে জনগণ যাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদের আবার বড় বড় পদে বসিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি এটাকে 'জনগণের সাথে এক ধরনের তামাশা' বলে অভিহিত করেন।