এলাহাবাদ হাইকোর্ট সোমবার কেন্দ্রীয় সরকার ও আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়াকে (এএসআই) নোটিশ জারি করে তাজমহলের নিচে মন্দিরের অস্তিত্ব খুঁজতে জরিপের বিষয়ে মতামত চেয়েছে। আগে আগ্রা আদালত তাজমহল জরিপের জন্য অ্যাডভোকেট-কমিশনার নিয়োগে অনুমতি দেয়নি।
হাইকোর্টের প্রশ্ন: কেন জরিপ করা যাবে না?
বিচারপতি রোহিতরঞ্জন আগরওয়ালের বেঞ্চ আবেদনকারী আইনজীবী হরিশঙ্কর জৈনের বক্তব্য শোনার পর জানতে চান, কেন সৌধের জরিপ করা যাবে না। জৈনের দাবি, তাজমহল আসলে একটি প্রাচীন হিন্দু মন্দির 'তেজো মহালয়া', যা ভগবান মহাদেবের উদ্দেশে উৎসর্গীকৃত। মামলায় হিন্দু দেবতা মহাদেবকে মূল পক্ষ করা হয়েছে।
হিন্দুত্ববাদীদের দাবি ও প্রেক্ষাপট
হরিশঙ্কর জৈনের ছেলে আইনজীবী বিষ্ণুশঙ্কর জৈন আগে জানিয়েছিলেন, তারা হিন্দু মহাসভার সঙ্গে যুক্ত এবং যেসব সৌধের নিচে হিন্দুদের পবিত্র স্থান রয়েছে, তার একটি দীর্ঘ তালিকা তৈরি করেছেন। বর্তমানে পিতা-পুত্র এই দল সেসব স্থানের বিরুদ্ধে মামলা করছেন।
আবেদনের মূল দাবি
বাদীপক্ষ একটি ঘোষণামূলক ডিক্রি ও নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছে, যাতে তাজমহলকে হিন্দু মন্দির ঘোষণা করে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সেখানে পূজা করার অনুমতি দেওয়া হয়। তারা দাবি করে, ভারতের সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে হিন্দুদের তাজমহলে 'দর্শন' ও 'পূজা' করার মৌলিক অধিকার রয়েছে।
আগের আদালতের রায়
২০১৯ সালে আগ্রার অতিরিক্ত দেওয়ানি বিচারক আবেদন খারিজ করে দেন, কারণ বাদীপক্ষ সুনির্দিষ্ট জায়গা নিশ্চিত করার জন্য কোনো রাজস্ব নথি দাখিল করতে ব্যর্থ হয়। ২০২৬ সালের এপ্রিলে আগ্রার অতিরিক্ত জেলা জজ একটি রিভিশন পিটিশন রক্ষণাবেক্ষণের অযোগ্য বলে গণ্য করেন। এই দুটি আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে বাদীপক্ষ হাইকোর্টে যায়।
ঐতিহাসিক দাবি
আবেদনে দাবি করা হয়েছে, তেজো মহালয় মন্দিরটি ১১৫৫-৫৬ খ্রিষ্টাব্দে রাজা পরমর্দি দেব নির্মাণ করেছিলেন। পরবর্তীতে মোগল সম্রাট শাহজাহান রাজা জয়সিংহের কাছ থেকে জোরপূর্বক দখল করে মমতাজ মহলের স্মৃতিসৌধে রূপান্তরিত করেন। ইউনেস্কো তাজমহলকে একটি হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং ভারত সরকারের পর্যটন ওয়েবসাইটে একে শাহজাহানের নির্মিত স্মৃতিসৌধ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ
হাইকোর্টের নোটিশের পর এএসআই ও কেন্দ্রীয় সরকারের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে। আবেদনকারীরা এএসআইয়ের পরিচালককে নির্দেশ দেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ চেয়েছেন, যাতে আবেদনকারীদের উপস্থিতিতে ভবনের ভেতর ও বাইরের ছবি তোলা হয় এবং তা বিচারিক প্রক্রিয়ায় দাখিল করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
আইনজীবীরা মনে করছেন, তাজমহল নিয়ে এই বিতর্ক নতুন এক বিতর্কের সূচনা করেছে, যা ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর রামমন্দির বিতর্কের মতো দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তাজমহলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে কয়েক বছরের মধ্যে।



