প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা: নতুন বছরে ঐক্য ও উন্নয়নের আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব বাংলাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি নববর্ষের এই শুভক্ষণে সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণের আহ্বান জানান। আজ সোমবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই শুভেচ্ছা বার্তা প্রকাশ করেন।
পহেলা বৈশাখের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য
তারেক রহমান তাঁর পোস্টে লিখেছেন, 'বিদায় ১৪৩২। স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩।' তিনি উল্লেখ করেন যে পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন এবং এটি আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের একটি অনন্য প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই দিনটি নতুনের আহ্বান নিয়ে ফিরে আসে, যা পুরনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।
তিনি আরও বলেন, পহেলা বৈশাখের সঙ্গে এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির এই সুবর্ণ সময়েও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃষকরা তাদের ফসল উৎপাদনের দিনক্ষণ ঠিক করেন। বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা পহেলা বৈশাখের মাধ্যমে নতুন করে উজ্জীবিত হয়। বৈশাখী মেলা, বৈশাখী শোভাযাত্রা, হালখাতার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্য তুলে ধরে এবং আমাদেরকে ঐক্যবোধে উজ্জীবিত করে।
নতুন সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি ও প্রতিশ্রুতি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসনের অবসানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের যাত্রা শুরু করার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এই সরকার রাষ্ট্র এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এছাড়া ইমাম-মুয়াজ্জিন-খতিব এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে। তিনি ঘোষণা করেন যে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকে কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে কৃষক কার্ড বাংলাদেশের কৃষক এবং কৃষি অর্থনীতিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সহনশীলতা, উদারতা ও বিশ্ব শান্তির আহ্বান
তারেক রহমান বাংলাদেশের জনগণের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির অন্তর্নিহিত সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির চর্চার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, এই চর্চা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বহুমতের সহাবস্থানকে সুদৃঢ় করবে। বিশ্ব আজ নানা সংকট ও সংঘাতে বিপর্যস্ত হওয়ায় শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।
তিনি নববর্ষের শুভক্ষণে সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণের আহ্বান জানান। নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে অতীতের সব হতাশা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। শেষে তিনি নববর্ষ সবার জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক বলে কামনা করেন এবং 'শুভ নববর্ষ ১৪৩৩' বলে শুভেচ্ছা জানান।



