মন্ত্রীর ব্যতিক্রমী বার্তা: ফুল গ্রহণ না করে সাশ্রয়ী দৃষ্টান্ত স্থাপন
মন্ত্রী ফুল গ্রহণ না করে সাশ্রয়ী দৃষ্টান্ত স্থাপন

মন্ত্রীর ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত: ফুল গ্রহণ না করে সাশ্রয়ী দৃষ্টান্ত স্থাপন

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কর্মদিবসে একটি ব্যতিক্রমী বার্তা দিয়েছেন। রোববার (১৫ মার্চ) রাজধানীর পরিবহন পুল ভবনে মন্ত্রণালয়ে প্রথমবার অফিস করতে এসে তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেওয়া ফুল গ্রহণ না করে কৃতজ্ঞতা জানান।

অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা এড়ানোর আহ্বান

মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নবনিযুক্ত মন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কর্মকর্তারা ফুল দিতে চাইলে তিনি বিনয়ের সঙ্গে তা গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। এ সময় তিনি অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা ও ব্যয় এড়িয়ে সাশ্রয়ী দৃষ্টান্ত স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ না করার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চান না যে আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে ফুল বিনিময়ে অপ্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় হোক। বিভিন্ন সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশে কেবল আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্য বছরে প্রায় ১৮ কোটি টাকা ফুল কেনায় ব্যয় হয়। তিনি এটিকে অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসী ব্যয় হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এ ধরনের খরচ কমিয়ে বাস্তবমুখী ও সাশ্রয়ী উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় কার্যক্রম পরিচালনা

স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে গত ১২ মার্চ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন টাঙ্গাইল–৮ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ আযম খান। পরে তাকে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ সর্বশ্রেষ্ঠ ও গৌরবময় অর্জন। এ চেতনা ধারণ করেই মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ শুধু অতীতের একটি ঘটনা নয়; এটি জাতির আত্মপরিচয়, গৌরব ও মূল্যবোধের প্রতীক। তাই মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ সমুন্নত রেখে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরও কার্যকর ও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কর্মকর্তাদের সহযোগিতার আশ্বাস

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

এই সভায় মন্ত্রী তার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেন যে, সরকারি কার্যক্রমে আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তার এই সিদ্ধান্ত একটি নতুন সংস্কৃতির সূচনা করতে পারে, যেখানে সরকারি পর্যায়ে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর মাধ্যমে জনগণের সম্পদের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।