প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: ধর্মীয় নেতাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা ও সম্মানী প্রদান
প্রধানমন্ত্রী: ধর্মীয় নেতাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণা: ধর্মীয় নেতাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরকারি সহযোগিতা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ধর্মীয় নেতারা মসজিদ, মন্দির বা অন্যান্য উপাসনালয়ে তাদের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যদি অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে চান, তাহলে সরকার তা বাস্তবায়নে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করতে প্রস্তুত। তিনি আরও ঘোষণা দিয়েছেন যে, প্রতিটি জেলার আইনশৃঙ্খলা বৈঠকে একজন ইমাম, খতিব বা ধর্মীয় প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য

শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের মাঝে সম্মনী প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, খাদেম, মন্দিরের পুরোহিত, স্কলার এবং ধর্মগুরুরা অংশগ্রহণ করেন।

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সব ধর্মের ঐক্য ও নিরাপদ সমাজ গঠনের আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "আমরা আজ সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসেছি, এক কাতারে রয়েছি। এটিই আমাদের আবহমানকালের ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ। কেউ যেন আমাদের মধ্যে বিভেদ-বিরোধ সৃষ্টি করতে না পারে। মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ কিংবা খ্রিষ্টান, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদী, আমরা সবাই মিলে ভালো থাকবো। সবার জন্য গড়ে তুলবো একটি নিরাপদ রাষ্ট্র ও সমাজ।"

তিনি আরও বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষ তথা প্রতিটি নাগরিকের আর্থিক-সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার রাষ্ট্রীয় সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবে। তবে নাগরিকদেরও রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি কিছু দায়-দায়িত্ব রয়েছে।

ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা ও মানবিক গুণাবলীর গুরুত্ব

ধর্মীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "ধর্মীয় বিধিবিধানের আলোকেই আপনারা আপনাদের শিক্ষা-দীক্ষা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে কীভাবে আরও বেশি করে দেশ এবং জনগণের কল্যাণে কাজে লাগাতে পারেন, সেই চিন্তা এবং চেষ্টা অব্যাহত রাখাও জরুরি।"

তিনি বলেন, অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ রাষ্ট্র মানুষের জীবনে আর্থিক স্বাচ্ছন্দ নিশ্চিত করতে পারে, কিন্তু ধৈর্য্য, সততা, কৃতজ্ঞতাবোধ, শ্রদ্ধা, আনুগত্য, সংহতি, সহনশীলতা, উদারতা, বন্ধুত্ব, বিনয়, দায় কিংবা দয়া এই সমস্ত বৈশিষ্ট অর্জন ছাড়া একজন ব্যক্তি মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন হয়ে উঠতে পারে না। এ ধরনের মানবিক বৈশিষ্টগুলো অর্জনের জন্য ধর্মীয় ও সামাজিক নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হওয়া জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

ধর্মীয় শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে মসজিদের ভূমিকা

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মসজিদ রয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা সারা দেশের এই মসজিদগুলোকে ধর্মীয় সামাজিক এবং নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে পারি।"

স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের সরকারের সময় দেশে প্রথমবারের মতো ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি চালু করা হয়েছিল। ১৯৯৩ সালে বেগম খালেদা জিয়া সরকারের সময় দেশে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়। বর্তমান সরকারও ইমাম-মুয়াজ্জিনদের একটি নির্দিষ্ট হারে সম্মানী ভাতা প্রদানের পাশাপাশি তাদের যোগ্যতাকে আরও কীভাবে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে কাজে লাগানো যায় সেই পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।

সম্মানী ভাতা কর্মসূচির বিস্তারিত

খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা দেওয়ার যে কর্মসূচি সরকার চালু করেছে, এই কর্মসূচির অধীনে প্রথম পর্যায়ে পাইলটিং স্কিমের আওতায় মোট ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির এবং ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহারের মোট ১৬ হাজার ৯৯২ জন মাসিক সম্মানী পাচ্ছেন। সরকারের পরিকল্পনা হলো সবাইকেই পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচির আওতায় আনা।

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সরকারের এসব অর্থনৈতিক কর্মসূচি উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো নাগরিকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, "নাগরিক হিসেবে যে যার অবস্থান থেকে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারলে আশা করি, আগামী ১০ বছরের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে আমরা একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ দেখতে পারবো।"