প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: যুদ্ধের জেরে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সময় লাগতে পারে, কিন্তু সরে আসা হবে না
প্রধানমন্ত্রী: যুদ্ধের জেরে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সময় লাগবে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সময় লাগতে পারে

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) মহাখালীর কড়াইলে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন যে, কোনো পরিস্থিতিতেই জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরকার সরে আসবে না। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, ইরান যুদ্ধের জেরে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে কিছু ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সময় বেশি লাগতে পারে।

ধৈর্য্যের সঙ্গে দেশ গড়ার আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের মাধ্যমে সমগ্র দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছেন, “আসুন আমরা ধৈর্যের সাথে সমগ্র পরিস্থিতি মোকাবেলা করি, আমরা ধৈর্যের সাথে সুন্দরভাবে আমাদের এই দেশটিকে গড়ে তুলি।” তিনি বলেন, সরকার জনগণের প্রত্যাশা বুঝতে পারলেও সমসাময়িক বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব বিবেচনায় নিতে হবে।

নারীর ক্ষমতায়নে ফ্যামিলি কার্ডের সূচনা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন বিএনপি সরকারের অন্যতম নির্বাচনি অঙ্গীকার ছিল, যা পূরণে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী এবং তাদের শিক্ষা ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়ন না করলে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

তিনি বিএনপির অতীত সরকারের সময় বেগম খালেদা জিয়ার নারী শিক্ষার অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “সেই শিক্ষিত নারী সমাজকে আজকে আমরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়ন করতে চাই, স্বচ্ছল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”

ফ্যামিলি কার্ডের পরিকল্পনা ও লক্ষ্য

প্রধানমন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ডের পরীক্ষামূলক কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের চার কোটি নারী-প্রধান পরিবারের কাছে পর্যায়ক্রমে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। তিনি বলেন, “ইনশাআল্লাহ আমার সরকার পর্যায়ক্রমিকভাবে সকলের কাছে এই ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে যেতে সক্ষম হবে।”

অনুষ্ঠানের বিবরণ

করাইল বস্তি এলাকা সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘নতুন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী ডা. জোবাইদা রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন, বেদ, ত্রিপিটক, বাইবেল পাঠ ও বিএনপি দলীয় সঙ্গীত পরিবেশনার পর ফ্যামিলি কার্ডের ওপর একটি প্রামাণ্য চিত্র উপস্থাপন করা হয়। সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বক্তব্য দেন এবং পরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুষ্ঠানে ১৭ জন নারী প্রধানের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেন। কার্ড তুলে দেওয়ার পরপরই তিনি ল্যাপটপে একটি বাটন প্রেস করেন, সঙ্গে সঙ্গে উপকারীভোগীদের কাছে নগদ অর্থ স্থানান্তরিত হয়। এ সময় তুমুল করতালিতে অনুষ্ঠানস্থল মুখর হয়ে ওঠে।