প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার: বক্তৃতা লেখকের ভূমিকা ও এস এ এম মাহফুজুর রহমানের নিয়োগ
প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার: ভূমিকা ও নিয়োগ

প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার: অজানা ভূমিকা ও নিয়োগের খুঁটিনাটি

‘স্পিচ রাইটার’ পদটি সাধারণ মানুষের কাছে তেমন পরিচিত নয়, এবং এই পদে নিযুক্ত ব্যক্তির কাজ নিয়েও মানুষের জ্ঞান সীমিত। তবে, প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার হিসেবে এস এ এম মাহফুজুর রহমানের নিয়োগের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে জনগণের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্পিচ রাইটারের বাংলা অর্থ ‘বক্তৃতা লেখক’, যা প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা লেখার দায়িত্ব বোঝায়, কিন্তু প্রকৃত কাজে রয়েছে কিছুটা ভিন্নতা ও জটিলতা।

স্পিচ রাইটারের কাজের প্রকৃতি

প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন এবং সেখানে বক্তৃতা প্রদান করেন। এই অনুষ্ঠানগুলোর আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার একটি প্রাথমিক খসড়া তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেয়। প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটারের মূল দায়িত্ব হলো এই খসড়ায় উল্লেখিত তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা। যদি অতিরিক্ত তথ্যের প্রয়োজন হয়, তবে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দফতর বা প্রতিষ্ঠান থেকে সেসব তথ্য সংগ্রহ করে যাচাই করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার চূড়ান্ত কপিতে সেগুলো সংযুক্ত করেন।

একসময় এই কাজটি প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের আওতায় ছিল, কিন্তু প্রেস উইংয়ের কাজের পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেশ কিছুদিন ধরে আলাদা উইং গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাবেক সচিব আবু অলম শহীদ খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আগে কাজটি প্রধানমন্ত্রীর দফতরের প্রেস উইং করতো। কিন্তু, প্রেস উইংয়ের কাজের পরিধি বেড়ে যাওয়ায় এর জন্য আলাদা উইং করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটারের মূল কাজ হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার খসড়ায় উল্লেখ করা তথ্যাদি যাচাই-বাছাই করে সঠিক তথ্য যুক্ত করে বক্তৃতার মূল কপি তৈরি করা।”

এস এ এম মাহফুজুর রহমানের নিয়োগ

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সোমবার (২ মার্চ) এস এ এম মাহফুজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার (গ্রেড-১) পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তাকে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগটি তার যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল অথবা প্রধানমন্ত্রীর সন্তুষ্টি সাপেক্ষে কার্যকর থাকবে।

এস এ এম মাহফুজুর রহমান প্রায় ১০ বছর ধরে ইউএনবির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর ইউএনবিতে সহ-সম্পাদক হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর থেকে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত রয়েছেন এবং তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্যও বটে। এই অভিজ্ঞতা তাকে প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার পদে নিয়োগের জন্য উপযুক্ত করে তুলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

স্পিচ রাইটার পদটি সরকারি কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, কারণ এটি নিশ্চিত করে যে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতাগুলো নির্ভুল তথ্য ও সঠিক বার্তা বহন করে। এই নিয়োগটি সরকারি প্রশাসনে পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা বৃদ্ধির একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।