কক্সবাজারে গ্যাসপাম্প বিস্ফোরণ: প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগ ও তদন্তের নির্দেশ
কক্সবাজার শহরের কলাতলী বাইপাস সড়কে একটি গ্যাসপাম্পে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের খোঁজ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবীবিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজলকে মুঠোফোনে কল দিয়ে এই দুর্ঘটনা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান।
প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ ও নির্দেশনা
সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল প্রথম আলোকে জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাত ৮টা ২০ মিনিটে তাঁর মুঠোফোনে কল করে কলাতলীর বাইপাস সড়কের গ্যাসপাম্পে বিস্ফোরণ এবং ভয়াবহ আগুনে দগ্ধ ও ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। পাম্পে বিস্ফোরণ, আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের তৎপরতা, তদন্ত কমিটি গঠনসহ সকল তথ্য জানানোর পর প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা দেন।
বিস্ফোরণের বিস্তারিত বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতি
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, শহরের কলাতলীর হোটেল-মোটেল জোনের পূর্ব পাশে বাইপাস সড়কের আদর্শগ্রামে অবস্থিত কক্সবাজার এলপিজি স্টেশনের গ্যাসপাম্পটি গত বুধবার সন্ধ্যায় ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গত হওয়ার পর আগুন ধরে যায়। পাম্পের কর্মচারীরা বালু ও পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও পরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আবার আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
বিস্ফোরণের পর আগুন আশপাশের ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে। এই ভয়াবহ আগুনে প্রায় ৩০টি গাড়ি, চারটি বাড়ি এবং নানা অবকাঠামো পুড়ে ছাই হয়ে যায়। দুর্ঘটনায় অন্তত ১৬ জন ব্যক্তি দগ্ধ হন, যাদের মধ্যে ৬ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে এবং ৩ জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দগ্ধ ব্যক্তিদের অবস্থা ও চিকিৎসা
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ছয়জন দগ্ধ ব্যক্তি হলেন আদর্শগ্রামের বাসিন্দা আবু তাহের, মো. সিরাজ, আবদুর রহিম, মো. সাকিব, মোতাহের হোসেন ও আবুল কাশেম। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ এস খালেদ জানান, এই ছয়জন রোগীর শরীরের ২০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পুড়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে এবং সবার অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে রয়েছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণ ও তদন্ত কমিটি গঠন
সেনা-বিমানবাহিনী এবং ফায়ার সার্ভিসের পৃথক ৯টি ইউনিট টানা পাঁচ ঘণ্টা চেষ্টার পর গত বুধবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে এই ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। ঘটনার তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে, যা দুর্ঘটনার কারণ ও দায়িত্ব নির্ধারণে কাজ করবে।
এই ঘটনা কক্সবাজার এলাকায় নিরাপত্তা ও গ্যাসপাম্প ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে, এবং প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আশার আলো হিসেবে দেখা দিয়েছে।
