রাজধানীতে অপহৃত এক স্কুলছাত্রকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। রবিবার দুপুরে খিলগাঁও থেকে অপহৃত নবম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর বাবা, যিনি সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা, কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ছুটে যান এবং ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে ঘটনাটি জানান।
প্রধানমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী ঘটনা শুনে সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের ফোন করে ছাত্রটিকে অবিলম্বে উদ্ধারের কঠোর নির্দেশ দেন। তারেক রহমানের এই দ্রুত সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপই উদ্ধার অভিযানের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অপহরণের বিস্তারিত বিবরণ
খিলগাঁওয়ের ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি আইডিয়াল স্কুলের নবম শ্রেণির এই ছাত্রটি স্কুল ছাড়ার পর রবিবার দুপুর আড়াইটার দিকে অপহৃত হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চার থেকে পাঁচ যুবক তাকে আটক করে খিলগাঁওয়ের জোড়াপুকুর এলাকার একটি সাততলা অর্ধনির্মিত ভবনে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনও করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অপহরণকারীরা পরে ছাত্রটির বাবার সাথে ফোনে যোগাযোগ করে পঞ্চাশ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা না দিলে ছাত্রটিকে হত্যার হুমকি দেয়। এই ফোন নম্বরটি ব্যবহার করেই রমনা বিভাগের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম অপহরণকারীদের সাথে যোগাযোগ করেন এবং টাকা পাঠানোর আশ্বাস দেন।
পুলিশের দ্রুত অভিযান ও উদ্ধার
পুলিশের মতে, অপহরণকারীরা সময়ক্ষেপণ ও দরকষাকষি করতে চাইলেও তখন পর্যন্ত পুলিশ তাদের অবস্থান ট্রেস করে ফেলেছে। এরপরই খিলগাঁওয়ের ওই অর্ধনির্মিত ভবনে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ছাত্রটিকে উদ্ধার করে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়।
উদ্ধার হওয়া ছাত্রটিকে পরে তার পরিবারের সাথে পুনরায় মিলিত করা হয়। পুলিশ জানায়, অপহরণে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় পুলিশের দ্রুত ও কার্যকরী তৎপরতা এবং প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আগ্রহ ও নির্দেশনা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
