প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্রদ্ধা: একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের স্মরণ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্রদ্ধা: একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্রদ্ধা: একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের স্মরণ

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপরই রাত ১২টা ৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এই সময় মাইকে অমর একুশের কালজয়ী গান, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ বাজতে থাকে, যা পরিবেশকে আরও মর্মস্পর্শী করে তোলে।

রাষ্ট্রীয় নেতাদের শ্রদ্ধা ও দোয়া

পুষ্পস্তবক অর্পণের পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ভাষাশহীদদের জন্য দোয়া ও মোনাজাত করেন, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব নাজির মাহমুদ পরিচালনা করেন। এর আগে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান।

বিভিন্ন দল ও প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করার পর বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নিয়েও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে তিনি স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। প্রধানমন্ত্রীর পর সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও মুজিবুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহসহ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ভাষাশহীদদের জন্য দোয়া ও মোনাজাত করেন।

আন্তর্জাতিক ও অন্যান্য শ্রদ্ধা

এরপর ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনীতিকেরা ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। নির্বাচন কমিশন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পর্যায়ক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও যাতায়াত নির্দেশনা

একুশের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুরো শহীদ মিনার এলাকা ৬৪টি ক্যামেরার নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি সোয়াট, ডগ স্কোয়াড, বম্ব ডিসপোজাল টিম ও ক্রাইম সিন ইউনিট সেখানে কাজ করছে। এ ছাড়া গোয়েন্দা নজরদারিসহ সাইবার মনিটরিং করা হচ্ছে।

শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার স্বার্থে শহীদ মিনার এলাকার সাতটি জায়গায় ‘ডাইভারশন’ (বিকল্প পথে যাওয়া) দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো শাহবাগ ক্রসিং, নীলক্ষেত ক্রসিং, শহীদুল্লাহ হল ক্রসিং, হাইকোর্ট ক্রসিং, চাঁনখারপুল ক্রসিং, পলাশী ক্রসিং ও বকশীবাজার ক্রসিং। শুক্রবার সন্ধ্যায় এসব ডাইভারশন দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নগরবাসীকে পলাশীর মোড়, জগন্নাথ হল ক্রসিং হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যেতে হবে। এর বাইরে অন্য কোনো রাস্তা দিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যাওয়া যাবে না। আর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রমনা ক্রসিং হয়ে দোয়েল চত্বর বা চাঁনখারপুল দিয়ে বেরিয়ে যেতে হবে। শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার স্বার্থে এই রুট সবাইকে অনুসরণ করতে হবে।