প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিতীয় কর্মদিবসে পরিবার কার্ড, পরিবেশ ও সেনাপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক
প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় কর্মদিবসে পরিবার কার্ড ও পরিবেশ বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিতীয় কর্মদিবসে পরিবার কার্ড, পরিবেশ ও সেনাপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে তার দ্বিতীয় কর্মদিবস অতিবাহিত করেছেন। এই দিনে তিনি সামাজিক সুরক্ষা, পরিবেশ সংস্কার ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন। নবনির্বাচিত সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পদক্ষেপ হিসেবে এই বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সচিবালয়ে আগমন ও কর্মকাণ্ড

প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টার কিছু পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অস্থায়ী কার্যালয়ে পৌঁছান। তার গুলশান এভিনিউর বাসভবন থেকে তিনি সকাল ৮টা ৩৪ মিনিটে ব্যক্তিগত গাড়িতে রওনা হয়ে ৯টা ১৫ মিনিটে সচিবালয়ে পৌঁছান। ৪১ মিনিটের এই যাত্রায় তার কনভয় চারটি ট্রাফিক সিগন্যালে থেমেছিল যেখানে লাল বাতি জ্বলছিল।

পথচারীরা প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি ট্রাফিক সিগন্যালে থামলে তাকে অভিবাদন জানান এবং হাততালি দেন। প্রধানমন্ত্রী গাড়ি থেকেই হাত নেড়ে তাদের অভিবাদনের উত্তর দেন। সচিবালয়ে পৌঁছে তিনি মন্ত্রী, সচিব ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন।

পরিবার কার্ড কর্মসূচির রূপরেখা চূড়ান্ত

দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির মধ্যে ছিল সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক। এই বৈঠকে সরকারের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ পরিবার কার্ড কর্মসূচির কাজের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী অঙ্গীকার এই উদ্যোগের লক্ষ্য প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য ন্যায্য মূল্যে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের একটি টেকসই কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা।

প্রাসঙ্গিক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবরা উপকারভোগী চিহ্নিতকরণ, বিতরণ প্রক্রিয়া এবং যোগ্য তালিকা সংকলনের প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির উপর প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী একটি কার্যকর ও স্বচ্ছ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন এবং সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় এই কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, পরিবার কার্ডকে একটি অগ্রাধিকার সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনিক প্রস্তুতির নিশ্চয়তা দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত এগিয়ে যেতে আগ্রহী।

পরিবেশ ও জলবায়ু এজেন্ডা

বিকাল প্রায় ২টায় প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক সম্পদ পুনরুদ্ধার বিষয়ক আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল পরবর্তী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের একটি মাস্টার প্ল্যান এবং প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ পুনরুদ্ধারের জন্য দেশব্যাপী নদী, খাল ও জলাধার ড্রেজিংয়ের একটি কর্মসূচি।

কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে জলবায়ু ঝুঁকি, জল ব্যবস্থাপনা চ্যালেঞ্জ এবং জলপথ দখলের বিষয়ে ব্রিফিং দেন। সরকার সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে দখলকৃত খাল ও নদী উদ্ধার এবং প্রস্তাবিত বনায়ন কার্যক্রমের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা জারি করতে পারে। এই বৈঠক দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন ও বাস্তুতান্ত্রিক অবক্ষয় মোকাবিলায় নতুন প্রশাসনের অঙ্গীকার প্রতিফলিত করে।

সেনাপ্রধানদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়

দিনের শুরুতে তিন বাহিনীর প্রধানরা প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় কার্যালয়ে তার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌপ্রধান অ্যাডমিরাল এম নজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলামও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

কর্মকর্তারা এই বৈঠককে নতুন প্রশাসন গঠনের পর সরকার প্রধান ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে নিয়মিত সম্পর্কের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বুধবার থেকে সচিবালয়ে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করছেন, যা বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম কর্মদিবস ছিল। তার স্থায়ী কার্যালয় ও সরকারি বাসভবন জামুনার সংস্কার ও মেরামত কাজ চলমান থাকায় তিনি সচিবালয়ে কাজ করছেন। তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি আগামী কয়েকদিন সচিবালয় থেকে কাজ চালিয়ে যাবেন।