প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রশাসনিক সংস্কারের নতুন ধারা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর 'সবার আগে বাংলাদেশ' স্লোগানকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একাধিক ব্যতিক্রমী ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সরকারি গাড়ি, চালক ও জ্বালানি ব্যবহার না করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চলাচল, প্রটোকল কমানো এবং শনিবারেও অফিস করার সিদ্ধান্তকে প্রশাসনে নতুন ধারা সূচনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি সুবিধা বর্জন ও চলাচল সংস্কার
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন নিশ্চিত করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যক্তিগত গাড়ি, নিজস্ব চালক ও নিজের কেনা জ্বালানি ব্যবহার করছেন। প্রধানমন্ত্রীর বহরে থাকা ১৩–১৪টি গাড়ি কমিয়ে মাত্র চারটিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। পাশাপাশি চলাচলের সময় সড়কের দুই পাশে পুলিশের সারিবদ্ধ অবস্থান বাতিল করা হয়েছে।
আরও উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে:
- সাধারণ চলাচলে গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহার না করা
- কেবল রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করা হবে
- মন্ত্রিসভার বৈঠক অধিকাংশ সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিবর্তে সচিবালয়ে আয়োজন
এই সিদ্ধান্তগুলোর মাধ্যমে ভিআইপি চলাচলের কারণে জনভোগান্তি কমাতে এবং প্রশাসনিক কাজে গতি আনতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার অফিস ও সংসদ সদস্যদের দায়িত্বশীলতা
প্রশাসনিক কাজে গতি আনতে সপ্তাহে ছয় দিন অফিস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতি শনিবার তার কার্যালয় খোলা থাকবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। সংসদ সদস্যদের বিশেষ সুবিধা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকার গঠনের পর সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকে বিএনপির সংসদ সদস্যরা শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে আনার ব্যাপারেও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের তাগিদ
বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নির্বাচনী ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও খাল খনন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা স্বল্প সময়ের মধ্যে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ শুরু হয়েছে।
১৮০ দিনের রোডম্যাপ ও অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি
মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক শেষে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ সাকি জানান, সরকার ১৮০ দিনের একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করবে। অগ্রাধিকারভিত্তিতে কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি:
- রমজানে স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা
- বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা
- গণমাধ্যম কমিশন নিয়ে কাজ করা
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে কার্যকর ভূমিকা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়ন ও শ্রমবাজার সম্প্রসারণ
শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নুরুল হক নুর জানান, সরকারপ্রধান দুর্নীতির প্রভাবমুক্ত হয়ে দৃশ্যমান উন্নয়ন, মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।
ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র কয়েক কার্যদিবসের মধ্যেই নেওয়া এসব সিদ্ধান্ত অনলাইন ও অফলাইনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে প্রশাসনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং নতুন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্য এগিয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলো প্রশাসনিক ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করেছেন। সরকারি সম্পদের সদ্ব্যবহার, জনসেবার মানোন্নয়ন এবং দায়িত্বশীল প্রশাসন গড়ে তোলার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন বিভিন্ন মহল।
