প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম দিন: শ্রদ্ধা নিবেদন, বৈঠক ও রমজানে বিদ্যুতের নির্দেশ
তারেক রহমানের প্রথম দিন: শ্রদ্ধা, বৈঠক ও নির্দেশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মবহুল প্রথম দিন: শ্রদ্ধা, বৈঠক ও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন তারেক রহমান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং শেরেবাংলা নগরে বাবা জিয়াউর রহমান ও মা বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন। এরপর সচিবালয়ে মন্ত্রী ও সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে বসে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন, যার মধ্যে পবিত্র মাহে রমজানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অন্যতম। রাতে তিনি জাতির উদ্দেশে টেলিভিশনে ভাষণ দেন, সব মিলিয়ে একটি কর্মমুখর দিন অতিবাহিত করেন।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে আবেগঘন শ্রদ্ধা নিবেদন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেলা ১১টায় সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পৌঁছে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। তিনি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং মোনাজাত করেন। এরপর স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে সই করে আবেগঘন মন্তব্য লিখেন। বইয়ে তিনি লিখেছেন, "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসানের পর একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকামী জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশের জনগণ গণতন্ত্রের পথে নতুন যারা শুরু করেছে। আলহামদুলিল্লাহ।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি নিরাপদ মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, এবং সেই লক্ষ্যেই তিনি কাজ শুরু করেছেন।

বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত ও সচিবালয়ে উৎসবের আমেজ

স্মৃতিসৌধ থেকে ফিরে শেরেবাংলা নগরে বাবা-মায়ের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারেক রহমান। এরপর দুপুর ১২টার কিছু পরে সচিবালয়ে পৌঁছান, যেখানে তাকে মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি অভ্যর্থনা জানান। নতুন প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সচিবালয়ে সাজ সাজ রব ও উৎসবের আমেজ ছিল, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উচ্ছ্বাসিত ছিলেন।

মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই তারেক রহমান সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং দেশ গড়ার নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন, অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, এবং বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। বিশেষ করে, রমজানে সেহরি, ইফতার ও তারাবির সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। এছাড়াও, সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে কাজ করার তাগিদ দেন।

সচিবদের সঙ্গে বৈঠক ও ইশতেহার বাস্তবায়নের আহ্বান

মন্ত্রিদের সঙ্গে বৈঠকের পর বিকালে সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রথমে সবার সঙ্গে পরিচিত হন এবং খোঁজখবর নেন। বৈঠকে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ঘোষিত ইশতেহার বাস্তবায়নে সচিবদের সহযোগিতা চান। ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে সচিবরা সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে রাজনীতির অংশ নন, কিন্তু জনগণ জাতীয়তাবাদী দলের ইশতেহার পছন্দ করেছেন, তাই এর বাস্তবায়নে সহযোগিতা কামনা করেন।

সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম দিনটি ছিল অত্যন্ত কর্মবহুল এবং তাৎপর্যপূর্ণ, যেখানে তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন থেকে শুরু করে প্রশাসনিক নির্দেশনা পর্যন্ত বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন করেন, দেশের উন্নয়নে তার প্রতিশ্রুতি ও দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন।