প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন ও বিশেষ বার্তা লিখলেন
ঢাকার সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে তিনি স্মৃতিসৌধ চত্বরে প্রবেশ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদনের ধারাবাহিকতা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুষ্পস্তবক অর্পণের পর জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি সম্মান জানিয়ে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর তিনি নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে আবারও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত থেকে শহীদদের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরিদর্শন বইয়ে সই ও বিশেষ বার্তা
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে সই করেন এবং একটি বিস্তৃত বার্তা লিখেন। তিনি ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ দিয়ে শুরু করে লিখেছেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসন শোষণের অবসানের পর একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকামী জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশের জনগণ গণতন্ত্রের পথে নতুন যাত্রা শুরু করেছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আমি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাই। বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নবগঠিত মন্ত্রিসভাসহ আমি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।’
শহীদদের প্রতি অঙ্গীকার
প্রধানমন্ত্রী তার বার্তায় মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের পাশাপাশি ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধসহ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সকল শহীদদের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, ‘শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি নিরাপদ মানবিক গণতান্ত্রিক স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। শহীদদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্যই আমরা কাজ শুরু করেছি।’
তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন যেন জনগণের সামনে ঘোষিত প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়নের তৌফিক দান করা হয় এবং সকল শহীদের মাগফিরাত কামনা করেন।
অতিরিক্ত কার্যক্রম
শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্মৃতিসৌধ চত্বরে একটি পারিজাতগাছের চারা রোপণ করেন। এই কার্যক্রমটি পরিবেশ সংরক্ষণ ও শহীদদের স্মরণে একটি প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই ঘটনাটি ঢাকা বিভাগের সাভার এলাকায় সংঘটিত হয়েছে এবং এটি দেশের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত। প্রধানমন্ত্রীর এই শ্রদ্ধা নিবেদন ও বার্তা জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করার একটি বার্তা বহন করে।
