কুমিল্লায় এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে এমপির ফেসবুক লাইভ, শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ
কুমিল্লায় পরীক্ষাকেন্দ্রে এমপির ফেসবুক লাইভ, নির্দেশ লঙ্ঘন

কুমিল্লায় এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে এমপির ফেসবুক লাইভ, শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ

কুমিল্লার হোমনা উপজেলার একটি এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করে ফেসবুক লাইভ করার অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনা অমান্য করার পাশাপাশি পাবলিক পরীক্ষা আইন, ১৯৮০-এর প্রয়োগ ও বাস্তবতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা ও আইনের লঙ্ঘন

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন গত ১২ এপ্রিল একটি মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্যদের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার হল পরিদর্শনে যেতে নিষেধ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘পরীক্ষার্থীদের বিরক্ত করা যাবে না এবং সঙ্গী-সাথি নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ নেই।’ তবে, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে কুমিল্লার হোমনা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে সংসদ সদস্য সেলিম ভুঁইয়া এই নির্দেশনা উপেক্ষা করে পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশ করেন এবং ফেসবুকে লাইভ সম্প্রচার চালান।

পাবলিক পরীক্ষা আইন, ১৯৮০ অনুযায়ী, পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারও পরীক্ষার কক্ষে প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই আইনের লঙ্ঘন ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবির জানিয়েছেন, বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীকে জানানো হয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য তার দিকেই তাকিয়ে আছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফেসবুক লাইভের বিবরণ ও প্রতিক্রিয়া

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, সকাল ১০টা ১০ মিনিটে এমপি সেলিম ভুঁইয়া তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে প্রায় ৯ মিনিটের একটি লাইভ শুরু করেন। লাইভে তিনি সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠে বিভিন্ন পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশ করেন এবং পরীক্ষার্থীদের বেঞ্চের সামনে গিয়ে প্রশ্নপত্র সহজ হয়েছে কি না—এমন প্রশ্ন করেন। এছাড়া, তিনি শিক্ষার্থীদের অঙ্গভঙ্গিতে নানা নির্দেশনা দেন, যা পরীক্ষার গোপনীয়তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক রুনা নাছরীন বলেন, ‘পরীক্ষাকক্ষ অত্যন্ত সংবেদনশীল স্থান এবং এখানে গোপনীয়তা বজায় রাখা জরুরি। পরিদর্শনে গেলেও কোনো ধরনের লাইভ সম্প্রচার বা এমন কার্যক্রম সমর্থনযোগ্য নয়।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকেই তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন এবং সারাদিন পরীক্ষার কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকায় আগে অবগত ছিলেন না।

পরবর্তী পদক্ষেপ ও আলোচনা

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবির জানান, তিনি শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পরীক্ষার জন্য স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এদিকে, সংসদ সদস্য সেলিম ভুঁইয়াকে এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এই ঘটনা শিক্ষা প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাবলিক পরীক্ষার নিরপেক্ষতা ও গোপনীয়তা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।