হাফ ভাড়া নিয়ে শিক্ষার্থীর সঙ্গে অসদাচরণ, জাবিতে মৌমিতা পরিবহনের ৬ বাস আটক
হাফ ভাড়া নিয়ে শিক্ষার্থীর সঙ্গে অসদাচরণ, জাবিতে ৬ বাস আটক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) একদল শিক্ষার্থী ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চলাচলকারী মৌমিতা পরিবহনের ছয়টি বাস আটক করে ক্যাম্পাসে নিয়ে গেছেন। হাফ ভাড়া নিয়ে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগের জেরে গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন মহাসড়ক থেকে বাসগুলো আটক করা হয়।

ঘটনার বিবরণ

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. হিরু মিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি তাঁর দুই বন্ধুসহ গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার পথে গাবতলীতে মৌমিতা পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। বাসটি আমিনবাজার এলাকায় পৌঁছালে বাসের সহকারী ভাড়া চান। তখন হিরু মিয়া শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র দেখিয়ে তিনজনের জন্য হাফ ভাড়া বাবদ ৬০ টাকা দেন। কিন্তু বাসের সহকারী হাফ ভাড়া নিতে অস্বীকৃতি জানান।

অসদাচরণ ও সংঘর্ষ

এই তিন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, বাসের সহকারী একপর্যায়ে হিরু মিয়াকে বলেন, যেহেতু তিনি ২০ টাকা ভাড়া দিয়েছেন, তাই তাঁকে হেমায়েতপুর এলাকায় ‘ঘাড় ধরে নামিয়ে দেওয়া হবে’। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় এবং বাসের সহকারী হিরুর জামার কলার ধরেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরে হিরু বিষয়টি তাঁর বন্ধুদের জানালে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন, যাতে বাসটি আটকানো যায়। তবে প্রধান ফটকের সামনে পৌঁছে বাসচালক পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দ্রুতগতিতে বাসটি নিয়ে চলে যান। পরে শিক্ষার্থীরা অন্য একটি বাসে করে ধাওয়া দিয়ে অভিযুক্ত বাসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশমাইল ফটক এলাকায় গিয়ে আটক করেন। বাসটির চালক ও সহকারী পালিয়ে যান।

অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া

হিরু মিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলমের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন প্রক্টর। তিনি বাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। হিরু তাঁকে মারধরের বিচার চান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আটক হওয়া একটি বাসের চালক মো. সজীব খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সব সময় হাফ ভাড়া নেন। সহকারীদেরও বলা থাকে, যাতে খারাপ ব্যবহার না করেন। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, বাসের মালিক যে সহকারী দিয়েছেন, তাঁকে চালক নিজেই চেনেন না। ফলে কার ব্যবহার কেমন, সেটা বোঝা যায় না।’

পরবর্তী পদক্ষেপ

ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা মৌমিতা পরিবহনের আরও পাঁচটি বাস আটক করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। বাসগুলো ক্যাম্পাসে আটকে রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। শিক্ষার্থীরা দ্রুত বিচার দাবি করছেন।