যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সরকারি ব্যয় কমানো: ৯ ক্ষেত্রে জারি হলো নতুন পরিপত্র
চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সরকারি গাড়ি কেনা, গাড়িতে জ্বালানি ব্যবহার, সভা-সেমিনারসহ মোট ৯টি ক্ষেত্রে সরকারের পরিচালন ব্যয় কমিয়ে একটি পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সরকারের পরিচালন ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যে এই পরিপত্রটি জারি করা হয়েছে, যা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
পরিপত্রে উল্লিখিত ৯টি ক্ষেত্রে ব্যয় কমানোর নির্দেশনা
পরিপত্রে সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে, সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি অবলম্বন করতে হবে:
- সরকারি গাড়িতে জ্বালানি ব্যবহার: সরকারি গাড়িতে মাসিক ভিত্তিতে বরাদ্দকৃত জ্বালানির ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে।
- গাড়ি ক্রয় ও বৈদেশিক প্রশিক্ষণ: সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া এবং সরকারি অর্থায়নে সব বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ রাখতে হবে।
- অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয়: প্রশিক্ষণ ব্যয় ছাড়া অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ কমাতে হবে।
- সভা-সেমিনার আয়োজন: সভা বা সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ এবং সেমিনার বা কনফারেন্স ব্যয় ২০ শতাংশ কমাতে হবে।
- ভ্রমণ ব্যয়: সরকারি কাজে ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ কমাতে হবে।
- সরকারি খাতে যানবাহন ও কম্পিউটার ক্রয়: সরকারি খাতে গাড়ি, জলযান, আকাশযান এবং কম্পিউটার ক্রয় শতভাগ কমাতে হবে।
- কার্যালয়ে জ্বালানি ব্যবহার: সরকারি কার্যালয়ে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে।
- ভবন শোভাবর্ধন: আবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ২০ শতাংশ এবং অনাবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ৫০ শতাংশ কমাতে হবে।
- ভূমি অধিগ্রহণ: ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় শতভাগ কমাতে হবে।
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে পরিপত্র জারি
এর আগে, গত ২ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার চতুর্থ বৈঠকে ব্যয় সংকোচনের একটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে এবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক এই পরিপত্রটি জারি করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক সাশ্রয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই পরিপত্রের মাধ্যমে সরকারি কার্যক্রমের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাসের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধকালীন সময়ে এই ধরনের পদক্ষেপ সরকারি অর্থের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।



