সরকারি কর্মকর্তাদের বাড়ি-গাড়িসহ ৯ খাতে ব্যয় কমানোর নির্দেশনা জারি
চলমান বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সরকারি পরিচালন ব্যয় সংকুচিত করার লক্ষ্যে ৯টি ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চাপের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ একটি পরিপত্র জারি করে সব সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছে।
মন্ত্রিসভা বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন
এর আগে গত ২ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে নিচের নির্দেশনাগুলো বহাল থাকবে।
ব্যয় কমানোর ৯টি প্রধান ক্ষেত্র
পরিপত্রে সরকারি ব্যয় হ্রাসের জন্য নিম্নলিখিত ৯টি ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:
- জ্বালানি ব্যবহার হ্রাস: সরকারি গাড়িতে মাসিক ভিত্তিতে বরাদ্দকৃত জ্বালানির ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে।
- গাড়ি ক্রয় ও প্রশিক্ষণ বন্ধ: সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদমুক্ত ঋণ প্রদান এবং সরকারি অর্থায়নে সকল বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ রাখতে হবে।
- অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় কমানো: প্রশিক্ষণ ব্যয় ছাড়া অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ কমাতে হবে।
- সভা ও সেমিনার ব্যয় হ্রাস: সভা বা সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ এবং সেমিনার বা কনফারেন্স ব্যয় ২০ শতাংশ কমাতে হবে।
- ভ্রমণ ব্যয় সংকোচন: সরকারি ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ কমাতে হবে।
- যানবাহন ও কম্পিউটার ক্রয় বন্ধ: সরকারি খাতে গাড়ি, জলযান, আকাশযান এবং কম্পিউটার ক্রয় শতভাগ কমাতে হবে।
- কার্যালয়ের জ্বালানি সাশ্রয়: সরকারি কার্যালয়ে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে।
- ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় কমানো: আবাসিক ভবনের শোভাবর্ধন ব্যয় ২০ শতাংশ এবং অনাবাসিক ভবনের শোভাবর্ধন ব্যয় ৫০ শতাংশ কমাতে হবে।
- ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় বন্ধ: ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় শতভাগ কমাতে হবে।
সংকট মোকাবিলায় সরকারের কৌশল
এই নির্দেশনা জারির মাধ্যমে সরকার চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় তার প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি ব্যয় কমানোর এই পদক্ষেপ রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং অন্যান্য খাতে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এই পরিপত্রটি সকল সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বাধ্যতামূলক হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



