সরকারের প্রথম একনেক সভায় পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন, দুটি ফেরত
বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান সরকারের প্রথম একনেক (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি) সভায় তিনটি সংশোধিত প্রকল্প এবং দুটি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। সোমবার অনুষ্ঠিত এই সভায় একনেকের কার্যতালিকায় থাকা ১৯টি প্রকল্পের মধ্যে প্রথম সাতটি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
অনুমোদিত প্রকল্পের তালিকা ও ব্যয় বিশ্লেষণ
অনুমোদিত পাঁচটি প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় ৪৮৩ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা, যার মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ৩৯০ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৯২ কোটি ০৬ লক্ষ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২: ৩৬৮ কোটি টাকা ব্যয় কমিয়ে সংশোধন করা হয়েছে।
- চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রজেক্ট-৪: শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য মেয়াদ বৃদ্ধি পেয়েছে।
- দেশের ৮টি বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক ইমেজিং ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ: প্রথম সংশোধিত প্রকল্প হিসেবে অনুমোদন লাভ করেছে।
- আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন: তৃতীয় সংশোধিত প্রকল্প হিসেবে অনুমোদিত হয়েছে।
- গোপালগঞ্জ ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন: দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্প হিসেবে অনুমোদন পেয়েছে।
ফেরত দেওয়া প্রকল্প ও সভার স্থানান্তর
তালিকার মধ্যে করতোয়া নদীর সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্প ও অংশীদারিমূলক পল্লী উন্নয়ন ৪র্থ পর্যায় (পিআরডিবি-৪) প্রকল্প অনুমোদন না দিয়ে ফেরত দেওয়া হয়েছে। করতোয়া নদী উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে, যা সভার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়ে ছিল।
একনেক সভা পরিকল্পনা কমিশন থেকে সচিবালয়ে মন্ত্রীপরিষদ সম্মেলন কক্ষে স্থানান্তরিত হয়েছে। সভা মধ্যপথে মুলতবি করা হয়েছে, যাতে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ও বিশদ তথ্য বুঝতে পারেন।
আগামী একনেকের জন্য পরিকল্পনা
আগামী একনেক সভায় আরও প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হবে, যার মধ্যে রয়েছে:
- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নগর স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাব।
- এনবিআরের কাস্টমস আধুনিকায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাব।
তালিকায় থাকা অন্যান্য প্রকল্প, যেমন নতুন অফিস ভবন নির্মাণ, নগর ও সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ প্রকল্প, আগামী একনেকে আলোচনার জন্য রাখা হবে। এই সভাটি সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রাধিকার ও বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



