সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ঋণ ও বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ, ব্যয় কমানোর নির্দেশ
সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ঋণ ও বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ

সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ঋণ ও বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ, ব্যয় কমানোর কঠোর নির্দেশ

সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ প্রদান এবং সরকারি অর্থায়নে সব বৈদেশিক প্রশিক্ষণ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মন্ত্রিসভার চতুর্থ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সরকারি ব্যয় কমানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরিচালন ব্যয় কমানোর জন্য পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদমুক্ত ঋণ প্রদান এবং সরকারি অর্থায়নে সকল বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকারের আর্থিক সাশ্রয় ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যান্য ব্যয় কমানোর নির্দেশনা

গাড়ি ঋণ ও বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু ক্ষেত্রে ব্যয় কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • প্রশিক্ষণ ব্যয় ছাড়া অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ কমাতে হবে।
  • সভা ও সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।
  • সেমিনার ও কনফারেন্সের ব্যয় ২০ শতাংশ কমাতে হবে।
  • সরকারি কর্মকর্তাদের ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অপচয় রোধ ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারের লক্ষ্য ও প্রভাব

সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ঋণ ও বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তটি সরকারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ নীতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে সরকারের পরিচালন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি দক্ষতা বৃদ্ধি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্য রয়েছে।

এই পদক্ষেপের ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক চাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে, বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকায় কর্মকর্তাদের পেশাদার উন্নয়নে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।

সরকারের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তা সরকারি ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই নিয়মগুলো বলবৎ থাকবে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নিশ্চিত করেছে।