সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা বন্ধ
সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার জন্য প্রদত্ত সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার চতুর্থ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য প্রকাশ
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়। ‘প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ এবং গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা, ২০২০’ অনুযায়ী উপসচিব ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ নিয়ে গাড়ি ক্রয়ের সুযোগ পেতেন। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এই সুবিধা আর বহাল থাকছে না।
নীতিমালার অন্যান্য সুবিধা
নীতিমালা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শুধু ঋণ সুবিধাই নয়, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতনের জন্য প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে ভাতা পান। এছাড়া গাড়ির জন্য প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে অবচয় সুবিধাও প্রযোজ্য ছিল। নতুন সিদ্ধান্তে এসব সুবিধার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
সরকারের পরিচালন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ
মন্ত্রিসভা বৈঠকের সিদ্ধান্ত তুলে ধরে প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়েছে, সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া এবং সরকারি অর্থায়নে সব বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে। এছাড়া, অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ, সভা বা সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ, সেমিনার বা কনফারেন্স ব্যয় ২০ শতাংশ এবং ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ কমাতে হবে।
এই পদক্ষেপগুলো সরকারের আর্থিক সংস্কার ও সাশ্রয়ী নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



