শরীয়তপুরে অবৈধ ডিজেল মজুতের অভিযানে ৭ হাজার লিটার জব্দ
শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর বাজারে এক ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠান থেকে অবৈধভাবে মজুতকৃত সাত হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। গত মঙ্গলবার রাতে পরিচালিত অভিযানে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যা দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ
নড়িয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকী দাসের নেতৃত্বে একটি দল পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ভোজেশ্বর বাজারে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় জুয়েল সরদার নামের এক ব্যবসায়ীকে তাঁর প্রতিষ্ঠানে ডিজেল মজুত করতে দেখা যায়। ব্যবসায়ী স্বীকার করেন যে, তিনি বরিশাল ডিপো থেকে একটি ট্যাংকলরির মাধ্যমে এই ডিজেল সংগ্রহ করেছেন, যা মূলত ঝালকাঠির অন্য এক ব্যবসায়ীর কাছে পাঠানোর কথা ছিল।
লাকী দাস জানান, ‘পদ্মা পেট্রোলিয়ামের বরিশাল ডিপো থেকে ডিজেলটি ঝালকাঠিতে পাঠানো হচ্ছিল, কিন্তু তা পরিবর্তন করে নড়িয়ায় মজুত করা হয়। এই ব্যবসায়ীর ডিজেল বিক্রির কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই, যা পেট্রোলিয়াম আইনের লঙ্ঘন।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান ডিজেল সংকটের সময়ে অবৈধ মজুত ও বিক্রি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
আদালতিক পদক্ষেপ ও পরবর্তী ব্যবস্থা
অভিযানের পর ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়, যেখানে জুয়েল সরদারকে দশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জব্দকৃত সাত হাজার লিটার ডিজেল উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে, যা সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
ব্যবসায়ী জুয়েল সরদার তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আমি কৃষকদের জন্য সার, বীজ ও ডিজেল বিক্রি করি। ডিজেল সংকটের কারণে বরিশাল থেকে এটি সংগ্রহ করেছিলাম, কিন্তু এটি অবৈধ হবে তা আমি পুরোপুরি বুঝতে পারিনি।’ তাঁর এই স্বীকারোক্তি প্রশাসনের অভিযানের যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠা করে।
প্রাসঙ্গিক প্রভাব ও গুরুত্ব
এই ঘটনা দেশের জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির গুরুত্ব তুলে ধরে। বিশেষ করে কৃষি মৌসুমে ডিজেলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায়, অবৈধ মজুত ও বাণিজ্য কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ এই ধরনের অনিয়ম রোধে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে।
শরীয়তপুরের মতো গ্রামীণ অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়। ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা প্রতিরোধে আরও কঠোর নজরদারি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।



