ডিজিটাল মাধ্যমের অপতথ্য রোধে নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় নিউ মিডিয়া বা ডিজিটাল মাধ্যমের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং মিথ্যা তথ্য রোধের জন্য একটি নতুন প্রকল্প শুরু করতে যাচ্ছে। আজ বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এই ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রকল্পের লক্ষ্য ও নাম
প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয়েছে 'নিউ মিডিয়ার সর্বোত্তম ব্যবহার ও স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান তৈরির মাধ্যমে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তর-সংস্থার কার্যক্রমের সঙ্গে জনসাধারণের সম্পৃক্ততা জোরদারকরণ'। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপতথ্য ছড়ানো রোধ করতে এবং জনগণের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ বাড়াতে চায়।
সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের এক মাসের কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়। উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান ছাড়াও তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। মন্ত্রী স্বপন ফ্যামিলি কার্ডসহ সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন।
সামাজিক মাধ্যমের উদ্বেগজনক প্রবণতা
জাহেদ উর রহমান বলেন, 'সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি নতুন ফেনোমেনন খুবই উদ্বেগজনক। কোনো প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমের মতো লোগো ব্যবহার করে ভিন্ন নাম দিয়ে সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে, যা মূলত স্যাটায়ার হলেও মারাত্মকভাবে অপতথ্য ছড়াচ্ছে।' তিনি ব্যাখ্যা করেন যে স্যাটায়ার করা যেতে পারে, কিন্তু তা যেন কোনো প্রতিষ্ঠিত মিডিয়ার অনুকরণ না হয়, কারণ এটি একটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
ডিসইনফরমেশন মোকাবিলার পদক্ষেপ
উপদেষ্টা আরও বলেন, ডিসইনফরমেশন বা অপতথ্য মোকাবিলার জন্য তিনটি প্রধান পদক্ষেপ নেওয়া হবে:
- ডিসইনফরমেশন শনাক্ত করা
- সেটি ডিবাঙ্ক বা ভুল প্রমাণ করা
- জনগণের কাছে সঠিক তথ্য প্রচার করা
তিনি উল্লেখ করেন, 'আমি অনেককে দেখেছি, এগুলো রেফার করে কথা বলছেন, শেয়ার করছেন—সচেতন মানুষ।' এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোও প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
নীতিমালা ও আইনি কাঠামো
জাহেদ উর রহমান জানান, সরকার একটি নীতিমালা এবং আইনের অধীন ডিসইনফরমেশন মোকাবিলা করতে চায়। তিনি বলেন, 'তাঁরা একটি নীতিমালা এবং আইনের অধীন ডিসইনফরমেশনকে ডিল করতে চান। মানুষকে বোঝাতে চান এটি অন্যায় ও একটি অপরাধ।' এই উদ্যোগের মাধ্যমে ডিজিটাল মাধ্যমের অপব্যবহার রোধ করে একটি স্বচ্ছ তথ্য পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।



