ভূমি অফিসে ফি তালিকা সাইনবোর্ডে প্রদর্শনের নির্দেশ, স্বচ্ছতা নিশ্চিতে উদ্যোগ
ভূমি অফিসে ফি তালিকা সাইনবোর্ডে প্রদর্শনের নির্দেশ

ভূমি অফিসে ফি তালিকা সাইনবোর্ডে প্রদর্শনের নির্দেশনা জারি

নামজারি, খতিয়ান ফি এবং মৌজা ম্যাপের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ফি সাধারণ মানুষের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে ভূমি অফিসে দৃশ্যমান স্থানে স্থায়ী সাইনবোর্ডের মাধ্যমে টাঙিয়ে রাখতে হবে। ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) পাঠানো হয়েছে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে।

সাইনবোর্ডের আকার ও ফি তালিকা প্রদর্শনের নির্দেশনা

চিঠিতে বলা হয়েছে, চার ফুট বাই আড়াই ফুট আকারের সাইনবোর্ডে সেবাভিত্তিক ফি তালিকা প্রদর্শন করতে হবে। নির্ধারিত ফি সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের ভোগান্তি কমাতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ভূমি সেবা প্রাপ্তিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে।

নামজারি ফির বিস্তারিত বিবরণ

নামজারির ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত কোর্ট ফি মাত্র ২০ টাকা। এছাড়া নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা, রেকর্ড সংশোধন বা হালকরণ ফি এক হাজার টাকা এবং প্রতি কপি খতিয়ান সরবরাহ ফি ১০০ টাকা। এই ফিগুলো পূর্বে অস্পষ্ট থাকলেও এখন সাইনবোর্ডের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে জানানো হবে।

খতিয়ান ফির নতুন নিয়মাবলী

সার্টিফাইড কপি বা অনলাইন কপির জন্য খতিয়ান ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১২০ টাকা। তবে ডাকযোগে খতিয়ান নিলে অতিরিক্ত ৪০ টাকা পরিশোধ করতে হবে। এই ব্যবস্থা ডিজিটাল পদ্ধতিকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি সেবা প্রাপ্তির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করবে।

মৌজা ম্যাপের ফি কাঠামো

মৌজা ম্যাপের প্রতি সিটের জন্য ফি ধার্য করা হয়েছে ৫৪৫ টাকা। ডাকযোগে ম্যাপ নিলে অতিরিক্ত ১১০ টাকা দিতে হবে। এই ফিগুলোও সাইনবোর্ডে উল্লেখ করা হবে, যাতে করে সাধারণ মানুষ সহজেই তথ্য পেতে পারে।

অনলাইন পেমেন্ট ও অভিযোগ প্রক্রিয়া

নির্ধারিত ফি ছাড়া অন্য কোনও ফি প্রযোজ্য নয় বলে জানিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। ভূমি উন্নয়ন করসহ সব ভূমিসেবা শুধুমাত্র অনলাইনে পরিশোধ করা যাবে। কোনও প্রকার নগদ লেনদেন না করার জন্য সব নাগরিককে অনুরোধ জানিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। তারা বলেছে, অতিরিক্ত ফি দাবি করলে ১৬১২২ নম্বরে অভিযোগ জানানো যাবে। এই ব্যবস্থা দুর্নীতি রোধ ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয় জনসেবায় আরও বেশি স্বচ্ছতা ও দক্ষতা আনতে চাইছে। সাইনবোর্ড স্থাপনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সহজেই ফি সম্পর্কে জানতে পারবে এবং অসাধু কর্মকর্তাদের হাত থেকে রক্ষা পাবে। এটি ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।