ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ: নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত ফি নিষিদ্ধ, অনলাইন লেনদেন বাধ্যতামূলক
ভূমি মন্ত্রণালয়: নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত নিষিদ্ধ, অনলাইন লেনদেন

ভূমি মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে ভূমিসেবার জন্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি ছাড়া অন্য কোনো অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য নয়। মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে উপজেলা, সার্কেল ভূমি অফিস এবং ইউনিয়ন বা পৌর ভূমি অফিসের দৃশ্যমান স্থানে স্থায়ী সাইনবোর্ডের মাধ্যমে এই ফিগুলো প্রদর্শন করা হয়। সাইনবোর্ডের আকার চার ফুট বাই আড়াই ফুট নির্ধারণ করা হয়েছে, যা নাগরিকদের জন্য সহজে দৃশ্যমান হবে।

অনলাইন লেনদেন বাধ্যতামূলক

ভূমি উন্নয়ন করসহ সকল ভূমিসেবা সংক্রান্ত ফি এখন থেকে শুধুমাত্র অনলাইনের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। আজ বৃহস্পতিবার ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সব নাগরিকের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে যে কোনো প্রকার নগদ লেনদেন থেকে বিরত থাকতে হবে, যাতে করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।

অভিযোগ করার পদ্ধতি

কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি ভূমিসেবা নেওয়ার সময় নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত কোনো ফি দাবি করে, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে ১৬১২২ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ করতে হবে। মন্ত্রণালয় এই অভিযোগগুলো দ্রুততার সাথে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

বিভিন্ন খাতের ফির বিস্তারিত তথ্য

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ভূমিসেবার বিভিন্ন খাতের জন্য নির্ধারিত ফির একটি তালিকা উল্লেখ করা হয়েছে। এই তালিকা নাগরিকদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য গাইড হিসেবে কাজ করবে।

  • নামজারি ফি: মোট ১ হাজার ১৭০ টাকা, যার মধ্যে কোর্ট ফি ২০ টাকা, নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা, রেকর্ড সংশোধন বা হালকরণ ফি ১ হাজার টাকা এবং প্রতি কপি খতিয়ান সরবরাহ ফি ১০০ টাকা অন্তর্ভুক্ত।
  • খতিয়ান ফি: সার্টিফাইড কপি বা অনলাইন কপির জন্য ১২০ টাকা। যদি ডাকযোগে খতিয়ান গ্রহণ করা হয়, তাহলে অতিরিক্ত ৪০ টাকা ডাক মাশুল পরিশোধ করতে হবে।
  • মৌজা ম্যাপ ফি: প্রতি শিটের জন্য ৫৪৫ টাকা। ডাকযোগে গ্রহণ করলে অতিরিক্ত ১১০ টাকা ডাকমাশুল যোগ হবে।

দুর্নীতি রোধে পদক্ষেপ

ভূমি মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত দুর্নীতি রোধ এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অনলাইন লেনদেনের মাধ্যমে জমির দলিল ও অন্যান্য ভূমিসেবা প্রক্রিয়ায় স্বয়ংক্রিয়তা বৃদ্ধি পাবে, যা সময় ও সম্পদের সাশ্রয় করবে।

মন্ত্রণালয় পুনরায় জোর দিয়ে বলেছে যে নির্ধারিত ফি ছাড়া অন্য কোনো ফি প্রযোজ্য নয় এবং নাগরিকদের এই বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই ব্যবস্থা ভূমি সেবা খাতে আরও দক্ষতা ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।