সরকারি কর্মকর্তাদের সময়মতো অফিসে উপস্থিতিতে কঠোর অবস্থান সরকারের
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সঠিক সময়ে অফিসে উপস্থিত না হলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থার সতর্কতা
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, “সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি সঠিক সময়ে অফিসে উপস্থিত না হন, তবে সরকারের প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী অত্যন্ত কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিষয়টি এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
প্রধানমন্ত্রীর সময়নিষ্ঠা উদাহরণ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সময় সচেতনতার কথা উল্লেখ করে নাসিমুল গনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন সকাল ৯টার আগেই তার দফতরে উপস্থিত হন। এমনকি জনদুর্ভোগ কমাতে এবং যানজট এড়াতে তিনি অনেক সময় প্রটোকল ছাড়াই খুব ভোরে সচিবালয়ে চলে আসেন।” প্রধানমন্ত্রীর এই সময়নিষ্ঠা কর্মকর্তাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে এবং একটি ইতিবাচক কাজের পরিবেশ তৈরি করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে নিজস্ব অফিস রয়েছে এবং তিনি প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনও দিন সেখানে অফিস করতে পারেন। তবে এটি সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয়।
প্রশাসনিক রদবদল প্রক্রিয়া
প্রশাসনে সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, “সময় ও প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনিক রদবদল বা পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক ও চলমান প্রক্রিয়া।” তিনি আরও যোগ করেন, এটি সময় হলেই সবাই দেখতে পাবেন। এই মন্তব্য প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বজায় রাখার ইঙ্গিত দেয়।
সরকারের এই কঠোর অবস্থান সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও সময়ানুবর্তিতা বৃদ্ধির প্রত্যাশা প্রকাশ করে। এটি একটি সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
