নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে একাধিক হত্যা মামলার পলাতক আসামি ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতারা সরকারি একটি সভায় অংশ নিয়েছেন। সভা শেষে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। আজ বুধবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের হলরুমে মাসিক সমন্বয় সভায় অংশ নেন তারা। এর আগে একই স্থানে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় অংশগ্রহণকারী পলাতক আসামিরা
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে আড়াইহাজার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ইউএনওর সভাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা চলাকালে হত্যা মামলার পলাতক ছয় আসামি (ইউপি চেয়ারম্যানরা) মিলনায়তনের নিচে ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষ হলে তারা মাসিক সমন্বয় সভায় অংশ নেন। সভায় অংশ নিতে ইউএনওর কার্যালয় থেকে তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছিল বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।
সভায় উপস্থিত ইউপি চেয়ারম্যানরা হলেন হাইজাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আলী হোসেন, বিশনন্দী ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, উচিতপুরা ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ইসমাইল হোসেন, খাগকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আরিফুল ইসলাম, মাহমুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, কালাপাহাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হক। তারা আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলামের (বাবু) ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তাদের বিরুদ্ধে আড়াইহাজার থানায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময়কার একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে।
স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা
গত দুই বছর পলাতক থাকার পর আসামিদের প্রকাশ্যে সরকারি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী প্রথম আলোকে বলেন, হত্যা মামলার আসামিরা কোনোভাবেই সরকারি কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন না। এটি অত্যন্ত দৃষ্টিকটু। পুলিশের উচিত দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করা।
আসামিদের বর্তমান অবস্থা
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আসামিদের মধ্যে কালাপাহাড়িয়া ইউপির চেয়ারম্যান ফয়জুল হক দুবার গ্রেপ্তারের পর কারাভোগ করে বর্তমানে জামিনে আছেন। তবে অন্য পাঁচ ইউপি চেয়ারম্যানের কেউ জামিনে নেই।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আড়াইহাজার উপজেলায় মোট ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টিতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাকি ছয় ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ–সমর্থিত চেয়ারম্যানরা দায়িত্বে আছেন।
পুলিশ ও ইউএনওর বক্তব্য
হত্যা মামলার আসামিদের উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘হত্যা মামলার আসামি হিসেবে তাদের পরিচয় আমার জানা ছিল না। বিষয়টি দুঃখজনক। মামলা থাকলে অবশ্যই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে আড়াইহাজারের ইউএনও আসাদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘তারা যে হত্যা মামলার আসামি, এটা আমি জানতাম না।’ তিনি বলেন, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের হার বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করতে চেয়ারম্যানদের নিয়ে সভাটি ডাকা হয়েছিল। ভবিষ্যতে তাদের ডাকা হবে না।



