সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ‘ভেরি ভেরি ইমপরট্যান্ট পারসন’ বা ভিভিআইপি মর্যাদার মেয়াদ ছয় মাস কমানো হয়েছে বলে কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদটি সত্য নয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, এটি একটি অপপ্রচার।
ভিভিআইপি মর্যাদার মেয়াদ নিয়ে বিভ্রান্তি
সম্প্রতি দেশের একাধিক অনলাইন নিউজপোর্টালে খবর প্রকাশিত হয় যে, ড. ইউনূসের ভিভিআইপি মর্যাদার মেয়াদ ছয় মাস কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র ইত্তেফাক ডিজিটালকে জানিয়েছে, এই খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সাবেক প্রধান উপদেষ্টা এক বছর এই মর্যাদা পাবেন, যা ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
প্রজ্ঞাপনের বিবরণ
চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি ড. ইউনূসকে এক বছরের জন্য ভিভিআইপি হিসেবে এসএসএফ নিরাপত্তা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সে অনুযায়ী, তিনি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) কঠোর নিরাপত্তা এবং প্রটোকল সুবিধা পাবেন। তবে এই গেজেটটি বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ের (বিজি প্রেস) ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়নি, যেখানে সাধারণত সব সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হয়ে থাকে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টা ও অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তা বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী ড. ইউনূস দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকে এসএসএফের নিরাপত্তা সুবিধা পাচ্ছেন। একজন ভিভিআইপি হিসেবে তার বাসভবন ও কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন এসএসএফ সদস্যরা। তার উপস্থিতিতে আয়োজিত সব অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা তল্লাশি থাকে এবং দেশ-বিদেশে ভ্রমণের সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের সমন্বয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
পটভূমি
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ছাড়েন। ক্ষমতা ছাড়ার মাত্র কয়েক দিন আগে ইউনূস নিজেই নিজেকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন আগে, অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত গেজেট জারি করা হয়।



