জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহামুদকে সংসদে কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ভালোভাবে স্টাডি বা পর্যালোচনা করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আজ রোববার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রীকে এ পরামর্শ দেন স্পিকার।
সংসদে প্রশ্ন ও উত্তাপ
সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমরা লোডশেডিং বলি বা মেরামত শেডিং বলি, গ্রামাঞ্চলে ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এটাই হলো বাস্তবতা।’ গত অধিবেশনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জ্বালানিমন্ত্রী মহান সংসদে দাঁড়িয়ে তাঁকে কথা দিয়েছিলেন যে পয়লা মে-এর মধ্যে আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা হবে। কিন্তু এখনো সেটা করা হয়নি। কবে গ্যাস পাওয়া যাবে, তা তিনি সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চান।
মন্ত্রীর জবাব
রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহামুদ বলেন, ‘১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, এটার সঙ্গে আমি একমত নই। উনি বিদ্যুৎ চাচ্ছেন, আবার ওনার ফার্টিলাইজার কারখানা চালাতে বলছেন। গ্যাসের তো আমাদের সংকট আছে। আমাদের বিদ্যুৎ প্ল্যান্টগুলো চালিয়ে রাখতে হচ্ছে। সে জন্য তার ওখানে সংযোগ দিতে পারছি না। গ্যাসের অবস্থার উন্নতি হলে সরবরাহ দেওয়া হবে। গত ১৭ বছরে ড্রিলিং করা হয়নি। আমরা এসে ড্রিলিং শুরু করেছি। আশা করি গ্যাস পাব, তারপর আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজারসহ সব ফার্টিলাইজারে গ্যাস সরবরাহ দিতে পারব।’
স্পিকারের পরামর্শ
মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্ত্রীকে তাঁর দেওয়া আগের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী, আপনি কিন্তু সংসদে বলেছিলেন এক তারিখ (মে মাসের) থেকে গ্যাস যাবে। সেটি বোধ হয় পাওয়া যায়নি।’ ভবিষ্যতে সংসদে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেন, ‘সংসদে যে প্রতিশ্রুতি দেবেন, সেটা ড্রিলিং বা অন্যান্য যাবতীয় আনুষঙ্গিক বিষয় স্টাডি করে তারপরে সংসদে দেবেন।’



