ভারতের সংসদে নারী আসন সংরক্ষণ ও আসন বৃদ্ধি বিল বিরোধীদের প্রতিরোধে খারিজ
ভারতের সংসদে নারী আসন সংরক্ষণ বিল বিরোধীদের প্রতিরোধে খারিজ

ভারতের সংসদে নারী আসন সংরক্ষণ ও আসন বৃদ্ধি বিল বিরোধীদের প্রতিরোধে খারিজ

ভারতের সংসদে একটি বড় ধাক্কা খেল ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। তারা নারী আসন সংরক্ষণ এবং সংসদের আসন বৃদ্ধিসংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল উত্থাপন করেছিল, কিন্তু বিরোধীদের সম্মিলিত প্রতিরোধে তা খারিজ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া আলোচনা শুক্রবার সন্ধ্যায় লোকসভায় ভোটাভুটিতে পরাজয়ের মাধ্যমে শেষ হয়, যা বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

বিলের পক্ষে ও বিপক্ষে ভোটের ফলাফল

ভোটাভুটিতে মোট ৫২৮ জন সদস্য অংশ নেন, যেখানে বিলের পক্ষে পড়ে ২৯৮ ভোট এবং বিপক্ষে ২৩০ ভোট। প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না পাওয়ায় মূল বিলটি খারিজ হয়, এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য দুই বিল প্রত্যাহৃত হয়। এই ঘটনাটি ১৫ বছরে সংসদে গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করার ক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের পরাজয় হিসেবে রেকর্ড করা হলো।

বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ

বিরোধীরা শুরু থেকেই বিজেপির এই তৎপরতার বিরোধিতা করে আসছিল। দুই দিনের বিতর্কে তারা বারবার সরকারকে মনে করিয়ে দেয় যে, তারা নারীদের জন্য সংসদ ও বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের পক্ষে, যা ২০২৩ সালে সর্বসম্মতভাবে পাস হয়েছিল। তবে এবার তারা বিরোধিতা করছে, কারণ তাদের মতে, বিজেপি নারী সংরক্ষণের নামে পেছনের দরজা দিয়ে সংসদের বহর বাড়িয়ে ক্ষমতায় থাকার পাকাপাকি বন্দোবস্ত করতে চাইছে। বিরোধী দলগুলোর মধ্যে 'ইন্ডিয়া' জোটের জমাট ঐক্য দেখা দিয়েছে, যা এই প্রথম এমন শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিলের প্রস্তাবিত পরিবর্তন ও বিরোধিতার কারণ

বিলে প্রস্তাব করা হয়েছিল যে, ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে এবং প্রতিটি রাজ্যের লোকসভার আসনসংখ্যা বর্তমান হিসাবের নিরিখে ৫০ শতাংশ বাড়ানো হবে। এই হিসাবে লোকসভার মোট সদস্যসংখ্যা ৫৪৩ থেকে বেড়ে ৮৫০ হবে, যার এক-তৃতীয়াংশ ২৭২টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত হবে। বিরোধীরা যুক্তি দিয়েছে যে, নারী সংরক্ষণের জন্য আসনসংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজন নেই, এবং বিজেপি আসন বাড়ানোর মধ্য দিয়ে সংসদ দখল করতে চাইছে। দক্ষিণের রাজ্যগুলো বিশেষত এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে, যদিও এনডিএর শরিক অন্ধ্র প্রদেশের টিডিপি বিলটি সমর্থন করেছে।

রাজনৈতিক বক্তব্য ও প্রতিক্রিয়া

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিতর্কে অংশ নিয়ে বলেন যে, দেশের কোটি কোটি নারী এই বিলের দিকে তাকিয়ে আছেন, এবং অধিকার থেকে যারা তাদের বঞ্চিত করবে, নারী সমাজ তাদের ক্ষমা করবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও একই কথা বলেন। অন্যদিকে, বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী বিজেপির উদ্দেশে বলেন যে, ক্ষমতা কমে আসছে বলে ভোট মানচিত্র বদলে তারা উঠেপড়ে নেমেছে, কিন্তু বিরোধীরা তা সফল হতে দেবে না। তাঁর ভাষণের কিছু অংশ সভার কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হয়।

বিজেপির রাজনৈতিক কৌশল ও ঝুঁকি

বিজেপি ভেবেচিন্তেই এই ঝুঁকি নিয়েছিল, আশা করেছিল যে জিতলে তারা পাকাপাকি ক্ষমতায় থাকার ছাড়পত্র আদায় করবে, বিশেষত উত্তরের হিন্দিভাষী রাজ্যগুলোর আসন বৃদ্ধি পেলে। যদি বিল পাস না হয়, তবে তারা বিরোধীদের নারীবিরোধী আখ্যা দিয়ে ভোটে জেতার চেষ্টা করবে। তবে বিরোধীরা এই হুমকিতে ভয় পায়নি এবং তাদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ সফল হয়েছে।

এই ঘটনা ভারতের রাজনৈতিক ল্যান্ডস্কেপে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের নির্বাচনী কৌশল ও নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।