সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট ১২ মে: মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় সরকারি-বিরোধী দলের নেত্রীরা
সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট ১২ মে: মনোনয়ন প্রতিযোগিতা

সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট আগামী ১২ মে: মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় উত্তাল রাজনীতি

আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে শেষ সময়ে দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন সরকারি ও বিরোধী দলের নেত্রীরা। ইতিমধ্যে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন অনেকে, যেখানে ক্ষমতাসীন বিএনপির নারীনেত্রীদের তৎপরতা বেশি লক্ষণীয়।

বিএনপিতে রেকর্ড ফরম বিক্রি: কারা নিলেন মনোনয়নপত্র?

গত ১০ এপ্রিল মনোনয়নপত্র বিক্রির প্রথম দিন থেকেই নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। স্লোগানমুখর কার্যালয় প্রাঙ্গণে এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি ফরম বিক্রি হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, দুই দিনে ফরম বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ২৫টি, যা অতীতের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে।

মনোনয়নপত্র সংগ্রহকারীদের মধ্যে রয়েছেন সুলতানা আহমাদ, নিলোফার চৌধুরী মনি, মনিরা বানু, শাহেনেওয়াজ চৌধুরী, ফরিদা আক্তার, মমতাজ আক্তার, ফারজানা রশিদ লাবনী, নিলুফা ইয়াসমিন খান, সায়েমা খাতুন, তাহমিনা বেগম রিপা, নাঈমা খন্দকার, রোকেয়া চৌধুরী বেবী, সামিরা আজিম দোলা, কাজী নাজিয়া হক, শাকিলা ফরহাদ বানু, রেহানা আক্তার রানু, কাজী নাজিয়া হক, জিনাত আরা আফু, কাজী মরিয়ম বেগম, হাফেজা ফেরদৌস লিমন, মাজেদা আহসান মুন্সী, তাহমিনা খান, রুবিনা আক্তার রুবা, শামিমা রহিম, মুনমুন তালুকদার, তহমীনা আক্তার হাসেমী, তাহসিন শারমিন তামান্না, রেহেনা পারভীন, ফৌজিয়া সাফদার সোহেলী, খালেদা ইয়াসমিন, আফসানা মিমি, সানসিলা জেবরিন, আইরীন মাহবুব, সানজানা চৈতী পপি, শাহানা সুলতানা, সেলিনা আফরোজ, নাছিমা তালুকদার, নাসিমা আক্তার, কাওসার জাহান ফরিদা, রায়হান রহমান হেলেন, লাভলী, জেসমিনা খানম, ফরিদা ইয়াসমিন (ডোরা), মমতাজ বেগম (নয়ন), বেগম রাজিয়া আলম, সেলিনা পারভীন, হাবিবা আক্তার পাপিয়া, আয়েশা আক্তার সানজি, সায়মা আহমেদ, শাহীনূর বেগম (সাগর), মাহমুদা আক্তার, নাছিমা ইসলাম চৌধুরী দৃষ্টি, জিন্নাতুন নেছা জিনু, সুলতানা বেগম (আঁখি সুলতানা), খাদিজা বেগম, মাহমুদা সুলতানা, মাহমুদা সুলতানা চৌধুরী (ঝরনা)।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দলীয় নেত্রীদের পাশাপাশি সংগীতশিল্পী ও শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও পিছিয়ে নেই। এর মধ্যে বেবী নাজনীন (নীলফামারী-৪), কনকচাঁপা (সিরাজগঞ্জ-১), দিলরুবা খান (জয়পুরহাট-২), রিজিয়া পারভীন (কিশোরগঞ্জ), দিঠি আনোয়ার (সিলেট ও কুমিল্লা) ও নৃত্যশিল্পী ফারহানা চৌধুরী (ময়মনসিংহ-১১) মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

জামায়াত ও এনসিপির অবস্থান: গোপন আলোচনা ও আসন বৃদ্ধির চেষ্টা

বিএনপির বিপরীতে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে ফরম বিক্রির পদ্ধতি নেই। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলীয় হাইকমান্ড যাদের মনোনয়ন দেবেন, শুধু তারাই ফরম পূরণ করে জমা দেবেন। তবে এ প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি। আলোচনায় আছেন কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপিকা নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ, সাবেক এমপি ডা. আমিনা বেগম রহমান, সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য শাহান আরা বেগম, সাঈদা রুম্মান, মার্জিয়া বেগম, খন্দকার আয়েশা খাতুন, ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট, কাজী মারিয়া ইসলাম বেবি, রাবেয়া খানম, ডা. শিরিন আক্তার রুনা, তানহা আজমি, নার্গিস খান, কানিজ ফাতেমা, সেলিনা আক্তার ও আয়েশা সিদ্দিকা এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি ব্যারিস্টার সাবিকুন্নাহার মুন্নী।

এ বিষয়ে দলটির মহিলা বিভাগের নেত্রী প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ জানান, দলীয়ভাবে এখনও কাউকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা বলা হয়নি এবং মনোনয়ন ফরম বিক্রি হচ্ছে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নেতাদের পরিবারের কেউ মনোনয়ন পেলেও সাংগঠনিক পদ্ধতির মধ্যেই আসতে হবে।

অন্যদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬টি আসনে জয় পেয়েছে তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সে হিসাবে সংরক্ষিত আসনে একটিতে মনোনয়ন পাবে দলটি। এ আসনের জন্য সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছেন দুই নেত্রী: যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও ডা. মাহমুদা মিতু। দলের একটি সূত্রের দাবি, তারা ১১ দলীয় জোটের প্রধান দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কাছ থেকে আরও একটি আসনের জন্য আলোচনা করছেন। বিষয়টি স্বীকার করেছেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। তিনি জানান, জামায়াত চাইলে তাদের দুই-একটি আসনে ছাড় দিতে পারে এবং এ নিয়ে উভয় দলের মধ্যে আলোচনা চলছে।

পারিবারিক বৃত্ত বনাম যোগ্যতা: রাজনৈতিক বিতর্ক

সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা হচ্ছে। প্রার্থী মনোনয়নে অতীতের মতো কি পারিবারিক বৃত্তকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে—নাকি পোড় খাওয়া ত্যাগী নেত্রীদের মূল্যায়ন করা হবে? এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। আবার অনেকে বলেন, নেতাদের পরিবারের সদস্য হলেও যোগ্যতা থাকলে যে কেউ প্রার্থী হতে পারেন।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘‘সংরক্ষিত আসনে নারী নেত্রীদের আগ্রহ ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি। কারণ এতে বুঝা যায় তাদের মধ্যে বড় দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আর শীর্ষ নেতাদের আত্মীয় হলেই যে এমপি হতে পারবেন না, সেটা ঠিক নয়। যোগ্যতা থাকলে তারাও মনোনয়ন পেতে পারেন। তবে আমি মনে করি, দলগুলোর উচিত যোগ্যদের মূল্যায়ন করা। সংসদে গেলে যেন কেউ তাদের অলংকার মনে না করতে পারে, সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে।’’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, তার দলের কোন নেত্রীরা মনোনয়ন পাবেন, তা এখনও নির্ধারিত হয়নি। তবে তারা সঠিক প্রার্থীদেরই বাছাই করবে, যেখানে পরিবারতন্ত্র নয়, সাংগঠনিক যোগ্যতাই হবে একমাত্র মাপকাঠি।

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবার সব ক্ষেত্রেই যোগ্যদের মূল্যায়ন করছেন। আশা করি সংরক্ষিত নারী আসনে মাঠে ভূমিকা রাখা নেত্রীদের মনোনয়ন দেবেন। আর কোনও নেতার স্ত্রী-সন্তানরা মনোনয়ন পেলেও অবশ্যই তাদের সর্বোচ্চ কোয়ালিটির অধিকারী হতে হবে।’’

কোন দল পাচ্ছে কয়টি আসন?

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে সাধারণ আসনে বিএনপি ২১৩টি, জামায়াত ৬৮টি ও এনসিপি পেয়েছে ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, খেলাফত মজলিস ১টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পেয়েছে ১টি, গণঅধিকার পরিষদ ১টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ১টি ও গণসংহতি আন্দোলন পেয়েছে ১টি আসন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন ৭টি আসন।

নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী সংসদে কোনও দলকে একটি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে ৬ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্য থাকতে হবে। সেই হিসাবে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে বিএনপি জোট ৩৬টি এবং জামায়াত জোট পাচ্ছে ১৩টি আসন। এ ক্ষেত্রে জামায়াত দলগতভাবে ১২টি, এনসিপি ১টি ও স্বতন্ত্র ৭ এমপি পাচ্ছেন একটি আসন।