বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে বিএনপির জয়, বিডিপি প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত
বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন। তিনি এক লাখ ৩৩ হাজার ৯৩১ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছেন ৫৭ হাজার ১৫৯ ভোট। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) প্রার্থী আল আমিন তালুকদার মাত্র ৪৯৯ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
ভোটের পরিসংখ্যান ও জামানত বাজেয়াপ্ত
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই উপনির্বাচনে মোট ভোটার ছিল চার লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ জন। ভোট পড়েছে এক লাখ ৯৩ হাজার ২৯৯টি, যার মধ্যে বৈধ ভোট এক লাখ ৯১ হাজার ৫৮৯টি। ভোট প্রদানের হার ছিল ৪২.৫৭ শতাংশ। বিডিপি প্রার্থী আল আমিন তালুকদার মোট বৈধ ভোটের এক-অষ্টমাংশ পেতে ব্যর্থ হওয়ায় তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তিনি ১৫১টি কেন্দ্রের ৮৩৫টি বুথে পোলিং এজেন্ট রাখলেও মাত্র ৪৯৯ ভোট পেয়েছেন, যা ব্যাপক কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
জামায়াতের ভোটে ব্যাপক পতন
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় জামায়াতে ইসলামীর ভোটে উল্লেখযোগ্য কমতি দেখা গেছে। তখন জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছিলেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট। কিন্তু মাত্র ৫৬ দিনের ব্যবধানে এই উপনির্বাচনে তার ভোট কমে দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার ১৫৯টিতে। অর্থাৎ, জামায়াতের ভোট কমেছে ৪০ হাজার ৪৬৭টি।
ভোটারদের প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণ
ভোটাররা এই পরিবর্তন নিয়ে নানা মতামত দিয়েছেন। অনেকে বলেছেন, বিডিপি প্রার্থী আল আমিন তালুকদার জামায়াতের ডামি প্রার্থী হিসেবে দেখা গেছেন, যিনি প্রচারণায় অংশ নেননি। এ কারণে ভোটাররা তাকে চিনতে পারেননি। আবার কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের ভোটাররা বিএনপির ওপর বিরক্ত হয়ে আগের নির্বাচনে জামায়াতকে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ বিল পাশ হওয়ায় অনেক নেতাকর্মী ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ায় ভোট কম পড়েছে, যা জামায়াতের ভোট হ্রাসের কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিডিপি প্রার্থী আল আমিন তালুকদার এবং জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেলের বক্তব্য এই প্রতিবেদন লেখার সময় পাওয়া যায়নি। বগুড়ার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফজলুল করিম বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেছেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে।



